Home ব্যবসায়িক পরামর্শ হোম মেড বিজনেস
হোম মেড বিজনেস

হোম মেড বিজনেস

by Tandava Krishna

বাড়িতে থেকে কিছু করার মতো ব্যবসায়িক ধারণা যা আপনি আজই শুরু করতে পারেন

বাড়ি থেকে ব্যবসা করার উপায় এখন অনেকেই খোঁজেন কারণ সবার পক্ষে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাজ খোঁজা সম্ভব নয়, আর করোনা ঘটিত সমস্যার জন্যে অনেকেই এখন আমরা বাড়িতে বসে, আর একটি দোকান কিনে তাকে সাজিয়ে গুছিয়ে ব্যবসা শুরু করার অর্থ একটা ভালো রকম পুঁজি যেটা সবার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই ইউটিউব এবং গুগলে এখন ট্রেন্ডিং একটা সার্চিং টপিক হলো ঘরে বসে কি কি ব্যবসা করা যায়, যার থেকে কিছু ইনকামওহয় আবার খুব বেশি ইনভেস্ট না করে শুরু করা যায় , আর আজ আমরা সেই ব্যাপারটা নিয়েই একটু আলোচনা করবো।আর এই ব্যবসা গুলো তরুণ তরুণী যারা কলেজে বা স্কুলে পড়ছো থেকে শুরু করে গৃহবধূ, যারা শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে চাইছো সবার জন্যেই সে পুরুষ হোক বা মহিলা সবাই করতে পারে। তবে কোনটা আপনার জন্যে উপযুক্ত হবে সেটা আপনাকেই ভাবতে হবে।  তবে আর দেরি না করে শুরু করা যাক-

অনলাইন রিসেলিং ব্যবসা 

গত এক দুই বছরের মধ্যে অনলাইন রিসেলিং ব্যবসা কিরকম জনপ্রিয় হয়েছে তা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট গুলো একটু ঘাটলেই বোঝা যায় , শুধু জামাকাপড়ই নয় জুতো, ব্যাগ , রোজকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে বাচ্ছাদের জিনিস, খেলনা সবই অনলাইনে পাওয়া যায়। তবে রিসেলিং এর অর্থ একটি পোশাক বা যে কোনো পণ্যের আসল দামের উপর নিজের জন্যে কিছুটা মার্জিন রেখে সেটাকে বিক্রি করা , আর এই রকম রিসেলিং ওয়েবসাইটের সংখ্যাও খুব একটা কম নয় , তবে মিসো, শপ ১০১ ভারতবর্ষের এই পুনর্বার বিক্রি ব্যবস্থাকে বেশ সড়গড় করে তুলেছে। আর এই জন্যে শুধু প্রয়োজন নিজের ফোন, একটি ওয়েবসাইট, নিজের ব্যাঙ্ক একাউন্ট আর হোয়াটসআপ নম্বর, কোনো ইনভেস্টমেন্টের দরকার নেই, জিনিস বিক্রি করতে পারলে ইনকাম আর ব্যবসা শুরু করার জন্যে কোনো টেনশনের দরকার নেই , আপনি পুরুষ বা মহিলা যেদিন খুশি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।  

কেক তৈরির ব্যবসা 

আমাদের দেশে উৎসব অনুষ্ঠান সারাবছর চলতেই থাকে।আর করোনার কারণে বাইরে দোকান থেকে কেক কিনতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন তাই এই ঘরোয়া কেকের ব্যবসা এখন বেশ উর্দ্ধমুখী আর এর জন্যে তো যে কোনো সেলেব্রেশন যেমন জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা  কেক থাকবে না এটাও ভাবা যায় না, তাই কেক, প্যাস্ট্রি তৈরী করে বাড়িতে ডেলিভারি করতে পারলেও বেশ লাভ করা যায়, তবে কেক তৈরী করার পদ্ধতি, প্যাকিং করার বাক্স, কেকের ডেকোরেশন এসব ব্যাপারগুলোতে নজর দিতে হবে, ভালোভাবে বিজ্ঞাপন দিতে হবে হোয়াটস্যাপ গ্রুপ, ফেসবুক গ্রুপ বা পাড়াতে ছোটোখাটো কেক তৈরী করে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারো আর ইউটিউব তো আছেই। সেখান থেকেও অর্ডার নিয়ে কাস্টমারদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। ব্যবসা শুরু করার সময় ২০০০ টাকার বা তারও কম একটা সেট আপ করতে পারলে যখন কেউ কেক অর্ডার করবে , কাঁচামাল বাবদ ২০০, ৩০০ টাকা খরচ করে ৬০০ ,৭০০ টাকা উপার্জন করা তেমন কষ্টসাধ্য নয়। তবে ফুড সেফটি এন্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া থেকে খাবারের কোয়ালিটি এর জন্যে ১০০ টাকার বিনিময়ে একটা সার্টিফিকেট করে নিতে পারলে সুবিধা হয়।  

চকলেট তৈরির ব্যবসা 

কেকের মতোই চকলেট ও যে লোভনীয় জিনিস সেকথা বলার অবকাশ রাখে না। বাচ্ছা থেকে বয়স্ক  মোটামুটি চকলেট পেলে সবাই খুশি হয় আর সেটা যদি নতুনত্ব ভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আপনার সফলতা আটকায় কে। এক্ষেত্রেও খুব বেশি কাঁচামালের দরকার হয় না, আর বাড়িতে মাইক্রোওভেন না থাকলে আপাতত গ্যাস সিলিন্ডারের সাহায্যেও চকলেট উৎপাদন করা যায়।একটি বড়ো সাইজের চকলেট কিনে সেটাকে গলিয়ে নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলে চকলেট তৈরী করে সেটাকে প্যাকিং করতে হবে।  কোনো হোলসেলারের বা ডিস্ট্রিবিউটরের সাথে কন্টাক্ট করে নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করা যায় , এছাড়া কোনো স্কুলের অনুষ্ঠান, ইভেন্টের সাহায্যেও নিজের প্রোডাক্ট সেল করা যায় যেমন জন্মদিনের পার্টি, সেলেব্রেশনের মুহূর্ত এসব তো আছেই। তবে ইউটউব বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। সাধারণত ১০০ টাকার প্রোডাক্ট থেকে ৪০০, ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করা যায়। আর এইভাবে একমাসের মধ্যে ১০ হাজার টাকা ইনকাম করাও যেতে পারে , তাই চকলেট তৈরীর ব্যবসা বাড়ি বসে শুরু করার জন্যে একটা অন্যতম উপায় বলা যেতে পারে তবে এক্ষেত্রেও ইন্ডিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি থেকে ১০০টাকার বিনিময়ে একটি সার্টিফিকেট তৈরী করে নিতে পারলে ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে সুবিধা হয়।  কোনো কাস্টমার সেফলি বা নিরাপদের প্রশ্ন করতেই পারে এই সার্টিফিকেট তখন সাহায্য করতে পারে ফুড কোয়ালিটি ব্যাপারগুলোতে।   

অনলাইন পাঠদান / টিউটোরিয়াল

স্কুল ও কলেজগুলি অনেকদিন ধরে বন্ধ থাকায় অভিভাবক এবং প্রবীণ শিক্ষার্থীরা বিষয় বা পাঠ শেখানোর জন্য অনলাইন টিউটরের সন্ধান করছেন। আপনি যদি পড়ানো পেশার সাথে জড়িত থাকেন, পড়াতে ভালোবাসেন বা আপনার কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ের গভীর জ্ঞান থাকে আর সেই বিষয়টিতে ডিগ্রি থাকে , যোগাযোগের দক্ষতা থাকে বা কোনও বিষয়কে আকর্ষণীয় উপায়ে বোঝার ক্ষমতা থাকে অনলাইন শিক্ষাদানের পথটি ভাল পরিমাণ অর্থোপার্জনের জন্য উপযুক্ত বিকল্প হবে।শিক্ষার্থীদের সাথে সংযোগ করতে আপনি কয়েকটি অনলাইন টিউটোরিয়াল সাইটে আবেদন করতে পারেন।  সঙ্গীত, সৃজনশীলতা, যোগব্যায়াম বা রান্না নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে কোনো বিষয়ে  আপনি এই অনলাইন টিউটোরিয়াল শুরু করতে পারেন।  আর প্রতি ক্লাস পিছু বেশ কিছু পরিমান অর্থ উপার্জন করাও যায় যেটা আপনি যে কোনো সময় শুরু করতে পারেন।  

কনটেন্ট, ব্লগ রাইটিং বা কোনো বিষয় নিয়ে লেখা

এখন আমরা গুগলে যে কোনও বিষয়ে জানার জন্যে সার্চ করি সব বয়সের মানুষই এই ব্যাপারে বেশ উৎসাহী। বিষয়গুলি আমাদের জ্ঞানদান এবং আকৃষ্টও করে। কনটেন্ট রাইটিং একটি বড় চাহিদা সম্পন্ন  সম্মানিত পেশাগুলির মধ্যে একটি। আর ফ্রীল্যানসিং কথাটা এখন বেশ শুনতে পাওয়া যায়, কোনো টাকা খরচ না করে  ওয়েবসাইটগুলিতে শুধু একটি বিষয় সম্পর্কে ভাল গবেষণা এবং সেই বিষয়ে ভালভাবে লেখা কন্টেন্ট রাইটিং কাজ হিসাবে পরিচিত। অথবা যে বিষয়টি সম্পর্কে আপনার বেশ জ্ঞান আছে যে ভাষাটিতে আপনি বিশেষজ্ঞ, এটি দিয়ে শুরু করতে পারেন।যারা এই কনটেন্ট রাইটিং দিয়ে লেখান তাদেরও অঞ্চল ভিত্তিক অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রয়োজন হয়।ইংরেজি সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকলে এবং একটি দুর্দান্ত রচনা শৈলীর সাথে শব্দভাণ্ডার প্রয়োগ আপনার যদি অভ্যাস হয় আপনি আপনার ভবিষ্যতের কথা আর বেশি ভাবতে হবে না। ঘুরতে ভালোবাসলে আপনার সেই ভ্রমণ  কাহিনীও ব্লগ হিসাবে বিক্রি করতে পারেন,  বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে আপনার আকর্ষণীয় লেখা মানুষের কাছে যত আকর্ষণীয় হবে আপনার লাভের পরিমানও বাড়বে। লিখতে ভালোবাসলে কোনো টাকা খরচ না করেই মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ করা যায় আর এই কাজে রিস্কও  নেই। সবার জন্যেই এই কাজ বেশ গ্রহণযোগ্য।

ই -কমার্স এর ব্যবসা 

ইকমার্স বিপণনটি আপনার অনলাইন স্টোর থেকে ক্রয়বিক্রয় চালানোর জন্য প্রচারমূলক কৌশল ব্যবহার করার, এবং সেই ক্রয়বিক্রয়কে অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকে রূপান্তরকরণ এবং সেই গ্রাহকদের পোস্ট-ক্রয় ধরে রাখার অভ্যাসকেই বোঝায়।মোবাইল থেকেই এই ব্যবসা করা যায় এবং ইকমার্স বিপণনটি এখন বেশ জনপ্রিয়। একটি সামগ্রিক ইকমার্স বিপণন কৌশল আপনার ওয়েবসাইট এবং তার বাইরেও  বিপণন কৌশল প্রচার করতে যথেষ্ট পারদর্শী। একটি উন্নত মানের মার্কেটিং কৌশল আপনার ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং বাড়ি থেকেই এই ব্যবসা শুরু করা যায়।  ডাইরেক্ট অনলাইন বিক্রয় বাড়াতে ই -কমার্স সহায়তা করতে পারে।

আশা করি এই ব্যাবসায়িক পথগুলি বাড়ি থেকে আপনার জীবন গড়তে সাহায্য করবে, আপনিও আপনার জীবনে এগিয়ে যাবেন।  

Related Posts

Leave a Comment