Home ব্যবসায়িক পরামর্শ হীরা ব্যবসায়ের ব্যবসা
হীরা ব্যবসায়ের ব্যবসা

হীরা ব্যবসায়ের ব্যবসা

by Tandava Krishna

ভারতে কীভাবে আসল ডায়মন্ড এর ব্যবসা শুরু করা যায়?

বর্তমানে ভারতে নতুন ব্যাবসার উদ্যোগ নেওয়ার একটা প্রচলন ঘটেছে এবং সেই কারনেই নতুন ব্যাবসার বাজারে নিজের স্থান করে নেওয়া ততটাই কঠিন হয়ে উঠেছে তাই যেকোনো ব্যাবসা শুরু করার আগে আপনার জানা দরকার যে আপনি যে ব্যাবসায় নামছেন, সেই ব্যাবসায় সাফল্য লাভ করতে গেলে আপনাকে কি করতে হবে আর এই নিয়ম, অন্য সকল ব্যাবসার মতন হিরের ব্যাবসাতেও প্রযোজ্য তাই আমরা জেনে নেব যে হিরের ব্যাবসায় সাফল্য লাভ করতে গেলে কি কি করতে হবে

হিরে হল পণ্যজাত ব্যাবসার সবছে বেশি মুল্যবান সামগ্রি তাই হিরের ব্যাবসাতে মুনাফার পরিমান ও বেশি বহু ব্যাবসায়ি হিরের ব্যাবসাকে ভারতের সবচেয়ে বেশি লাভজনক ব্যাবসা বলে ঘোষণা করেছে তবে এই ব্যাবসা লাভজনক হওার পাশাপাশি খরচাসাপেক্ষ ও বটে। তাই এই ব্যাবসায় নামার আগে ব্যাবসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আমাদের জেনে নিতে হবে।

হীরার প্রকারভেদ সমন্ধে কিছু সংক্ষিপ্ত ধারণা 

যখন আমরা হিরের ব্যাবসা করতে যাব, সবার আগে আমরা জানব কোন ধরনের হিরের ব্যাবসা আমরা করতে চলেছি।সাধারন্ত, ব্যাবসার জন্য যে সকল হিরে ব্যাবহার হয়, তার মুল্য নির্ভর করে তার রঙ এর উপর। উদাহরনস্বরুপ, রংবিহীন বা সাদা হিরে খুব ই দুর্লভ হয়। তাই তার জন্য তার মুল্য ও বেশি হয়। তবে রঙিন হিরে দুর্লভতার মাপকাঠিতে সাদা হিরের ও উপরেহিরের রঙ যত গাড়, তার মুল্য ও তত বেশি। এর প্রমাণস্বরূপ দেখানো যেতে পারে গত আট বছরে হিরের মুল্যব্রিদ্ধি কি হারে হয়েছে।এই মুল্যবৃদ্ধি নীল হিরের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ এবং গোলাপি হিরের জন্য তা ১৮০ শতাংশ।

অন্য একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ১০০০০ হিরের মধ্যে একটি হিরে রঙিন হয়। শুধু এই পরিসংখ্যান দুটি দেখেই আপ্নারা নিশ্চয়ই ধারনা করতে পারছেন যে হিরের রঙ জানা একজন হিরে ব্যাবসায়ির জন্য কত জরুরি। কারণ এই সমস্ত দুর্লভ হিরের জন্য উপভোক্তারা উপযুক্ত মুল্য দিতে রাজি। এবং ভারতে এই হিরের উপভক্তার সংখ্যা ও প্রচুর। তাই, আমরা যদি সঠিক হিরে বিক্রয়ের ব্যাবস্থা করতে পারি, তাহলে আপনি যথেষ্ট মুনাফা অর্জন করতে পারি।

ব্যাবসা শুরু কিভাবে করবেন?

হিরের ব্যাবসায় মুনাফা অর্জনের সুযোগ যেমন প্রচুর, তেমন এই ব্যাবসা শুরু করতে এবং চালিয়ে নিয়ে যেতে অর্থের প্রয়োজন ও প্রচুর। তাই ব্যাবসায় নামার সময়ে যদি আপনার কাছে প্রচুর অর্থ না থাকে তবে আপনি অনেক সমসসার সম্মুখীন হতে পারেন। এবং ভারতে এই সমস্যার সম্মুখীন সমস্ত তরুন উদ্যক্তাদের ই কমবেশি হতে হয়। তাই আপনার জানা দরকার যে সীমিত অর্থবল নিয়ে আপনি কি করে হিরের ব্যাবসা শুরু করতে পারেন এবং সাফল্য লাভ করতে পারেন।

প্রথমত আপনি অল্প অর্থবল নিয়ে ছোট আকারে ব্যাবসা শুরু করতে পারেন।এরপর যদি আপনি ব্যাবসায় মুনাফা লাভ করতে পারেন, তাহলে আপনি সেই মুনাফার অর্থ থেকে আপনি নিজের ব্যাবসার বৃদ্ধির জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারেন। যেহেতু হিরের ব্যাবসায় মুনাফার পরিমাণ বেশি, তাই আপনার এই অর্থ উপার্জন করতে বেশি সময় লাগবে না তাই আপনার যদি এরকম ধারনা হয়ে থাকে যে প্রচুর অর্থ না থাকলে হিরের ব্যাবসা শুরু করা যাবে না, তাহলে আপনি একদম ই ভুল ধারনা করেছেন। আপনি যদি সঠিক পথ অনুসরণ করেন তাহলে আপনি খুব শীঘ্রই আপনার ব্যাবসা থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই  জানুন হীরা ব্যাবসার প্রকারভেদ

আপনি যখন হিরের ব্যাবসা শুরু করতে যাচ্ছেন, আপনাকে আগে নিজের ব্যাবসার ধরন বেছে নিতে হবে। মুলত ৩ ধরনের ব্যাবসায়ীরা হিরের ব্যাবসায় সহজেই নিজেদের স্থান করে নিতে পারেন। আসুন, এইগুলো সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত ভাবে জেনে নিই।

১)মনিকার-

প্রথম যে ধরনের ব্যাবসায়িরা এই ব্যাবসায় সফল হতে পারেন তারা হলেন মনিকার। মনিকারদের এই ব্যাবসায় নামতে গেলে প্রাথমিক অর্থের প্রয়োজন হয়। তার কারণ হল আপনাকে অনেক ধরনের যন্ত্রপাতি কিনতে হবে ব্যাবসা শুরু করার আগেই। তবে আপনি যদি এই সামান্য খরচা বহন করতে পারেন, তবে আপনি প্রচুর কম মুল্যে পালিশ না করা অশুদ্ধ হিরের আকরিক কিনতে পারেন। এরপর আপনি নিজে বা নিজের কর্মচারীদের সাহায্যে এই হিরেগুলি পালিশ করে প্রচুর মুনাফায় বিক্রি করতে পারেন। তাই, বলা বাহুল্য আপনি বেশ খানিকটা অর্থ জোগাড় করতে পারেন ব্যাবসা শুরু করার আগে, তাহলে এই ধরনের ব্যাবসা করে আপনি কম মুল্যে পন্য সামগ্রী কিনে আপনি প্রচুর মুনাফায় এবং অনেক বেশি দামে হিরেগুলি বিক্রি করতে পারেন এবং প্রচুর উপার্জন করতে পারেন।

২)খুচরো বিক্রেতা-

আপনার কাছে যদি মনিকারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার সামর্থ না থাকে, তাহলে আপনি কিছুটা মুলধন সংগ্রহ করে হিরের খুচরো বিক্রেতা হিসেবে আপনি হিরের ব্যাবসায়ি হয়ে উথতে পারেন। বর্তমানে বেশ কিছু ভারতীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের প্রচেষ্টায় হিরের খুচরো বিক্রেতা হিসেবে হিরের ব্যাবসায় অবতরন করছেন। তারা মনিকার দের কাছে অপেক্ষাক্রিত কম দামে হিরে কিনে নেন এবং তার উপর প্রয়োজনীয় মুনাফা জগ হরে হিরের উপভোক্তাদের কাছে তা বিক্রয় করেন। এই ব্যাবসায় আপনার প্রয়োজনীয় মূলধন বেশি, তবে আপনাকে মনিকারদের মত হিরে ক্রয় করার পর তারুপর কন অতিরিক্ত কাজ করতে হয় না। অর্থাৎ আপনি সম্পূর্ণ ঝুঁকিবিহীন উপায়ে হিরের ব্যাবসা শুরু করতে পারেন।

৩)ব্রোকার (দালাল)-

যখন আপনি ব্যাবসা শুরু করতে চলেছেন, তখন এমন কপ্ন পরিস্থিতি এসে দারাতেই পারে জার জন্য আপনার কাছে যন্ত্রপাতি বা পালিশ করা হিরে, কোনোটা কেনারই সামর্থ নেই। তবে এমন সময়ে কি আপনি ব্যাবসা শুরু করতে পারবেন না? এই প্রস্ন যদি আপনার মনে এসে থাকে, তবে সেই প্রস্ন একেবারেই অনর্থক। কারণ আপনি যদি বিক্রেতা এবং ক্রেতা, উভয়পক্ষের কাছেই সঠিক পরিমাণ বিশ্বাস ও পরিচিতি অর্জন করতে পাড়েন, তবে আপনি ন্যুনতম মূলধন নিয়ে, বা কনরকম মূলধন ই না নিয়ে ব্যাবসা শুরু করতে পাড়েন। এক্ষেত্রে আপনার কাজ হল ক্রেতাদের ও বিক্রেতাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন। আপনি যদি নিজের পরিচিতি সফলভাবে গঠন করে থাকেন, তবে আপনি যেকোনো এক পক্ষ, বা কখনো কখনো উভয় পক্ষের থেকেই দস্তুরি বাবদ অর্থ উপার্জন করতে পাড়েন।

ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার হিরে ব্যাবসায়িদের জন্য উপদেশ

ভারতে যে সমস্ত তরুন উদ্যোক্তারা হিরের ব্যাবসায়ে আগ্রহি হয়ে থাকেন, তাদের অনেকেই কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভুলের কারণে তাদের ব্যাবসাকে সঠিক রুপ দিতে পারে না। তাই তাদের সুবিধার জন্য কয়েক্তি সাধারণ উপদেশ এখানে প্রদান করা হল।

১) নূতন ব্যাবসায়িদের সবসময়ে সেই সমস্ত বিক্রেতার খজ করা উছিত জারা কোন দামে হিরে বিক্রি করে থাকে। ভারতে এমন বেশ কিছু কর্মশালা দেখা যায় যেখানে অত্যন্ত কম ও ন্যাজ্য মুল্যে হিরে ও অন্যান্ন রত্ন পাওয়া যায়।

২) বর্তমানে ভারতীয় জনগনের এক বৃহদাংশ ইন্টারনেট পরিসেবা ব্যাবহার করে অনলাইন কেনাকাতা করে থাকেন। তাই তারা হিরে কেনার সময় ও একই পন্থা অব্লম্বন করতে পাড়েন। তাই ব্যাবসা শুরু করার সময় উছিত আপনার একটু ওয়েবসাইট বানিয়ে নেওয়া।

৩) আপনি যেখান থেকে হিরে ক্রয় করছেন সে কতটা খাঁটি। আপনার হিরের মান জত ভাল হবে, আপনার ক্রেতারাও ততটাই খুসি হবেন এবং পরবর্তী সময়ে আবার আপনার কাছে এ ক্রয় করার কথা ভাববেন।

এই সমস্ত কথাগুলি যদি আপনি অনুসরণ করতে পাড়েন, তাহলে আপনি কোন সমস্যা ছাড়াই ভারতে হিরের ব্যাবসায় অবতীর্ণ হতে পারেন। তবে এ ছাড়াও আপনার দেখা দরকার যে আপনি ভআরতের কোন স্থানে ব্যাবসা শুরু করছেন। সেই নির্দিষ্ট স্থানের বিশেষত্ব অনুযায়ী আপনি উপরে উল্লেখিত এই উপদেশ গুলিকে যদি পরিবরতন ও অনুসরণ করেন তবে আপনি সহজেই এই ব্যাবসায় প্রভূত সাফল্য লাভ করবেন।

Related Posts

Leave a Comment