Home ব্যবসায়িক পরামর্শ শাড়ি খুচরা দোকান
শাড়ি খুচরা দোকান

শাড়ি খুচরা দোকান

by Tandava Krishna

বাড়ি থেকে খুচরো শাড়ি ব্যবসা কিভাবে শুরু করবে

যতই নিত্য নতুন পোশাক বাজারে আসুক চিরাচরিত শাড়ির গুরুত্ত্ব নারীদের কাছে অপরিসীমযুগ যুগ ধরে শাড়ি যেমন নারীদের ভূষণ হয়েছে তেমনই শাড়ি নারীদের পরিচয়ও বটে তাই শাড়ির ব্যবসা সবসময়ই ফ্যাশন ইন বলা যায় আর সারাবছর ধরে অনেকেই শাড়ি কেনেন তাই যারা ভাবছেন শাড়ির ব্যবসা করবেন শুরু করে দিন কয়েকটা ধাপ মেনেই যেহেতু খুব বেশি মূলধন জোগাড়ের প্রয়োজন হয়না তাই অনেকেই ঘরে বসে শাড়ি বিক্রি করে বেশ লাভ করেনআজকে আমরা আলোচনা করবো বাড়ি থেকে খুচরো শাড়ি ব্যবসা কিভাবে শুরু করলে সেটা একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্যে ভালো হবে

শাড়ির ব্যবসা শুরু করার আগে যে কটি বিষয় মনে রাখতে হবে – 

  • শাড়ির কালেকশন 

প্রথমত নজর দিতে হবে শাড়ির কলেকশনের দিকে নিত্যনতুন হালকা, ভারী রঙিন শাড়ি থেকে বয়স্ক মানুষদের হালকা শাড়ি সবরকম কালেকশন থাকা উচিত  যে কোনো পোশাক, এমনকি শাড়িকেও একটি পরিবর্তনশীল এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা হিসাবেই ধরা যায়শাড়ির আকার চেঞ্জ না হলেও কালার, ডিসাইন টেক্সচার যেগুলো একটা শাড়ির আসল উপকরণ সেগুলোর ওপর ডিপেন্ড করেই শাড়ির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, নতুন নতুন নামে শাড়িকে আহ্বান জানানো হয়তাই বাজারে কোন কোন শাড়ি চলছে , কোন বয়সের মেয়েরা কি ধরণের শাড়ি পছন্দ করছে সেই ব্যাপারে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবেনিত্যনতুন কালেকশন আপনার কাছে মজুত রাখতে হবেবিভিন্ন রকমের শাড়ির নাম জানাও খুব দরকার।  

  • পেমেন্ট পদ্ধতি   

বড়ো দোকান গুলোতে সাধারণত একবারে সমস্ত পেমেন্ট করতে হয়। সেটা বেশি পরিমান হলেও অনেক দোকানেই কোনো ধার বাকী রাখা চলে না। তাই আপনি যখন বাড়িতে ব্যবসা করবেন, অনেকেই বলতে পারে ইনস্টলমেন্টে পেমেন্ট করবে।আর খুচরো শাড়ি ব্যাবসায় অনেকেই ইনস্টলমেন্টের সুবিধা রাখেন। তাই আপনি যদি ইনস্টলমেন্টের ব্যবস্থা করতে পারেন আপনারও প্রতি মাসে কিছু ইনকাম হয়ে যাবে।  

  • বিক্রয় পদ্ধতি 

আপনার ব্যাবসায় কাস্টমার বাড়ানোর জন্যে সঠিক দামে শাড়ি বিক্রয় করতে হবে। অনেকে হয়তো শাড়ি কিনতে চায় কিন্তু তার পক্ষে আপনার বাড়ি যাওয়া সম্ভব নয়। তাই ব্যবসা বাড়ানোর জন্যে আপনাকে এই মানসিকতা রাখতে হবে।প্রয়োজনে কাস্টমারের বাড়ি গিয়েও শাড়ি  করতে হতে পারে। আপনার ব্যাবসার কথা যাতে সবাই জানতে পারে তার জন্যে আপনার বাড়ির কাছে আপনার চেনা শোনা সবাইকে ব্যাবসার কথা বলুন। তাদেরকে একবার আপনার কালেকশন দেখে যেতে বলুন।

  • পাইকারি বাজারে যোগাযোগ করুন 

এবার বলি আপনি শাড়ি কোথা থেকে কিনবেন। কারণ আপনি কম দামে শাড়ি কিনতে না পারলে আপনার লভ্যাংশ কমে যাবে অথচ এই কম্পেটিশন মার্কেটে আপনাকে ন্যায্য দামে শাড়ি বিক্রয় করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি পাইকারী বাজারে যোগাযোগ করতে পারেন। বিভিন্ন জায়গায় হাট বসে যেখানে কম দামে শাড়ি পাওয়া যায়।আপনি সেগুলোও খোঁজ নিতে পারেন। কিন্তু কোনো শাড়ি যদি বিক্রয় না হয় তবে সেটা ফেরত হবে কিনা বা আপনাকে ধারে সে জিনিস দেবে কিনা এসব ব্যাপারে খবর নিন। ছোট বড়ো সমস্ত হোলসেলার থেকে খবর নিতে পারেন কারা কোন দামে শাড়ি বিক্রি করতে প্রস্তুত। সেই ভাবে আপনাকেও শাড়ির ব্যবসা শুরু করার জন্যে রেডি হতে হবে।

  • বুটিক হাউস

বর্তমানে আমাদের দেশে বুটিক হাউসের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।শাড়ির ব্যাবসার সাথে সাথে কিছু বুটিকের কাজ করলেও আপনার ব্যাবসায় উন্নতি হতে পারে। তবে কাপড়ের সেলাই, গুণগত মান, ও আধুনিকতার ওপর আপনাকে সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।  ক্রেতাদের সন্তুষ্টি এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও একজন বিক্রেতা হিসাবে আপনার প্রধান দায়িত্ব। সাধারণ শাড়ির পাশাপাশি অনেকেই একটু ডিসাইনার শাড়ি পছন্দ করে যেটা বুটিকের শাড়িতে পাওয়া যায়। এব্যাপারে আপনি একটু নলেজ নিলে আপনারই ভালো হতে পারে।

  • মুখের অভিব্যাক্তি

ব্যাবসার ক্ষেত্রে শাড়ি কিনতে আপনার কাছে যে আসবে তার অভিব্যাক্তি আপনার কাছে  খুব মূল্যবান। সে কোন বয়সী, কি ধরণের শাড়ি দেখতে চাইছে, এগুলোর ওপর মনোযোগ দিতে হবে।  প্রথমেই তাকে কিছু আকর্ষণীয় শাড়ি দেখাতে হবে যাতে সে অন্তত একটা শাড়ি কিনতে বাধ্য হয়। তবে আপনাকে সদা হাস্য  মুখে থাকতে হবে। আপনার ব্যবহার এবং হাস্য মুখই হবে আপনার অলংকার। আপনি পুরুষ বা মহিলা যেই হন কোনো কাস্টমারের কাছে উপযুক্ত পোশাক পরিচ্ছদ পরে প্রেসেন্টবল থাকার চেষ্টা করুন।কারণ আপনি পোশাকের ব্যাবসায় যুক্ত।কাস্টমার যাতে আপনার বক্তব্য উপস্থাপনে বিশ্বাস ও সততা অনুভব করে সেই চেষ্টা করুন। আই কনট্যাক্ট বজায় রাখুন।  ক্রেতার বক্তব্য শোনাও আপনার একটি দায়িত্বের মধ্যে পড়বে। এই গুলি পালন করলে আপনার সফলতা আসবেই একথা বলতে পারি।

  • সুসম্পর্ক বজায় রাখা 

কেউ কোনো শাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।  কোনো ধরনের নেতিবাচক ধারণা যেন না হয় এদিকে খেয়াল থাকতে হবে।  কারণ শাড়ির ব্যাবসায় মুখের কথায় মার্কেটিং হয়।  একজন আপনার কাছ থেকে শাড়ি কিনলো তার মাধ্যমেই অন্যর সাথে আপনার পরিচয়টা এগিয়ে যেতে পারে। তাই কেউ শাড়ি না কিনলে ধৈর্য হারাবেন না। অন্যান্য ব্যবসায়িক সহযোগীদের সাথেও কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন যাতে সেখানেও কোনো মনমালিন্য না হয়। কাওকে যদি সেই সময় তার পছন্দের শাড়ি দেখাতে না পারেন তবে কিছুদিন সময় নিন তাকে ভরসা দিন আপনি তার জন্যে উপযুক্ত শাড়ি আনবেন। আপনার ওপর সে যদি বিশস্ত হয় সে আপনাকে ঠিক ভরসা করবে। জনসংযোগ বাড়ানোর দিকে সতর্ক হন।

  • বিজ্ঞাপন দেয়ার ব্যবস্থা

আপনার বাড়ি যেখানেই হোক যদি কোনো গলিতে বা ছোট জায়গায় হলেও চারিদিকে, বা মেন্ রাস্তার দিকে বিজ্ঞাপন দেয়ার ব্যবস্থা করুন।  যাতে নতুন কেউ আপনার বাড়িতে আসার জন্যে অসুবিধায় না পড়ে, সবাই আপনার ব্যাবসার ব্যাপারে জানতে পারে।  এছাড়া বিজ্ঞাপন এখনকার দিনে একটি বাধ্যবাধকার জায়গায় পৌঁছে গেছে।  সবার কাছে পোঁছানোর জন্যে  ঘরে বসেই নিজের ই-কমার্স সাইট তৈরী করতে পারেন। অনলাইন আপনার ব্যবসাকে এগোতে সহায়তা করবে। আপনার নিষ্ঠাই আপনাকে ব্যবসায় লাভবান ও সফল করে তুলতে পারে।কারো সাথে যোগাযোগ করার সময় সবসময় নিজের চোখ কান খোলা রাখুন।

শাড়ি যেহেতু খুব লোভনীয় জিনিস তাই যখন কাউকে দেখাবেন আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনি কোনো শাড়ি খুঁজে না পেলে ডাইরেক্ট কাউকে ব্লেম করতে পারবেন না। তাই আগে থেকে আপনাকে কোন শাড়ির কত দাম, কোন শাড়ি কটা বিক্রি হলো, কোন টাইপের এর শাড়ি কতগুলো আছে এসব ব্যাপারে নোট ডাউন করে রাখুন।  অস্থির হবেন না।  অস্থিরতাই কাজের প্রধান অন্তরায়। তাই আপনি যখন কর্মরত অবস্থায় রয়েছেন তখন কোনো কাস্টমার ডিল বন্ধ করুন। সবার সাথে পরিমিত কথা বলুন খুব বেশি কথা বলাও অনেকে যেমন পছন্দ করেন না আবার একদম চুপচাপ ও থাকবেন না। তাই হাসা বা কথা বলার আগে সেখানে নিজের অবস্থানটা তৈরি করে নিন। আত্মবিশ্বাসের সাথে সবকিছু পরিচালনা করুন। আপনি সফল হবেন।

 

Related Posts

Leave a Comment