Home ব্যবসায়িক পরামর্শ লুব্রিক্যান্ট ব্যবসা
লুব্রিক্যান্ট ব্যবসা

লুব্রিক্যান্ট ব্যবসা

by Tandava Krishna

কীভাবে লুব্রিক্যান্ট তেলের ব্যবসায় সাফল্য লাভ করবেন?

যখনই আপনি লুব্রিক্যান্ট তেলের ব্যবসা করার কথা ভাবছেন, তার প্রতিযোগিতামূলক বাজার দরের কথা আপনাকে মাথায় রাখতেই হবে। কারণ, আপনি যদি সঠিক দর না দিতে পারেন, তাহলে আপনার ব্যবসা বাজারে জায়গা করে নিতে পারবে না। তবে আপনি যদি মুনাফামূলক কোনো ব্যবসা করার কথা ভাবেন, তবে এই লুব্রিক্যান্ট তেলের ব্যবসা হল অন্যতম একটি। গ্রীস ও ইঞ্জিন অয়েল হল অটোমোবাইল জগতের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জিনিস। ব্যবহারের ভিত্তিতে দুই ধরনের লুব্রিক্যান্ট তেল বাজারে পাওয়া যায় – ১) গাড়িতে ব্যবহারের জন্য ও ২) কারখানার বড় বড় যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য।

লুব্রিক্যান্ট তেলের ব্যবসার মূল বৈশিষ্ট্যঃ

ব্যবসার ক্ষেত্রে সমস্ত পরিকল্পনারই একটা নিজস্বতা আছে, তবে যার কার্যকর বৈশিষ্ট্য বেশি, সেটিই হয়ে যায় সবার সেরা। একটি লুব্রিক্যান্ট তেলের ব্যবসার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন – ব্যবসার মূল লক্ষ্য, পরিকল্পনার একটা সার্বিক বিবৃতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, প্রচারের পরিকল্পনা, এবং সময়সূচী। এই বৈশিষ্ট্যগুলি ছাড়া আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা কখনোই আপনার বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের আকর্ষিত করবে না। এই বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে একটু আলোচনা করা যাক – 

  • ব্যবসার মূল লক্ষ্যঃ

যে কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে তার প্রধান লক্ষ্য স্থির করা। লুব্রিক্যান্ট তেলের ক্ষেত্রেও তার কোনও ব্যতিক্রম নেই। আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি ব্যবসাটিকে আগামী ৫ বা ১০ বছর পর কোন স্তরে নিয়ে যেতে চান । আপনার এই লক্ষ্যের উপর ভিত্তি করেই আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ অপেক্ষা করবে। আপনি যদি বৃহৎ স্তরে দেখতে চান, তবে আপনাকে সেই মত তার প্রচার, অর্থনীতি ও অন্যান্য পরিকল্পনা করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি খুচরো বিক্রেতা হতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে অন্যরকম পরিকল্পনা করতে হবে। তাই যে কোনো ব্যবসা শুরু করার আগে তার মূল লক্ষ্য স্থির করা হল ব্যবসার পরিকল্পনার প্রথম বৈশিষ্ট্য।

  • সার্বিক পরিকল্পনাঃ

আপনার লুব্রিক্যান্ট তেলের ব্যবসার মূল লক্ষ্য আপনি স্থির করে ফেলেছেন। এর পরবর্তীপদক্ষেপ হল আপনাকে ব্যবসার প্রক্রিয়ার একটা পর্চা বা স্কেচ তৈরী করে নিতে হবে। অর্থাৎ, ব্যবসার অর্থনৈতিক বণ্টন, প্রচারের মাধ্যম ও পরিধি, সময়সূচী ইত্যাদি সব মিলিয়ে একটি সার্বিক পরিকল্পনা আপনাকে তৈরী করতে হবে। আর এই পরিকল্পনা অনুযায়ীই আপনি আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে সক্ষম হবেন। এই সার্বিক পরিকল্পনায় আপনার ব্যবসার প্রত্যেকটি পর্যায়ের একটা সংক্ষিপ্ত ব্যখ্যা থাকবে, যাতে এটি দেখলেই আপনি বুঝে যাবেন যে আপনার কি করণীয়।

  • অর্থনৈতিক পরিকল্পনাঃ

নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে মূলধন বা পূঁজি হল আপনার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটা বিপুল পরিমাণ অর্থ আপনি বিনিয়োগ করতে চলেছেন, আপনাকে যথেষ্ট ঠান্ডা মাথায় তার পরিকল্পনা করতে হবে। আপনার ব্যবসার কতজন মূল বিনিয়োগকারী থাকবেন এবং কতজনকে আপনি অংশীদার হিসাবে নির্বাচন করবেন তার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা আপনাকে করে রাখতে হবে। শুধু তাই নয় কোন খাতে আপনি কত খরচ করবেন তারও বিস্তৃত বিবরণ আপনার কাছে থাকা প্রয়োজন। যে কোনো নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রচারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়। তাই এই প্রচারের খাতে কত অর্থ খরচ করা প্রয়োজন তা আপনাকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনাতে নির্ধারন করে ফেলতে হবে।

  • প্রচার পরিকল্পনাঃ

প্রচার এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক সময়ে সঠিক গ্রাহকের কাছে যদি বিজ্ঞাপন না পৌঁছায় তবে সেই প্রচারের কোনো অর্থই হয় না। তাই বিজ্ঞাপন ও প্রচারের সঠিক রণনীতি তৈরী না করলে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করা খুব মুশকিল। লুব্রিক্যান্ট তেলের ক্ষেত্রে তার প্রচার ও বিজ্ঞাপন পৌঁছান উচিত সে সব গ্যারেজের কাছে যারা প্রতিদিন বেশী সংখ্যক গাড়ী বা মোটর বাইক সারায় বা সার্ভিস করে। অর্থাৎ এই গ্যারেজগুলি প্রতিনিয়ত যথেষ্ট পরিমাণ লুব্রিক্যান্ট তেলের প্রয়োজন হয়। আর তার যদি আপনার গ্রাহক হয়ে যায়, তাহলে আপনার মুনাফার পরিমাণ দ্রুত গতিতে বাড়তে পারে। এ ছাড়াও আপনার প্রচার প্রতিনিধি বড় বড় কারখানা বা যে সব জায়গায় লুব্রিক্যান্ট তেলের প্রয়োজন খুব বেশি সেখানে পৌঁছে যেতে পারে তবে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্ডারে আপনার ব্যবসায় মুনাফার পরিমাণ বিরাট মাত্রায় বেড়ে যেতে পারে। আর এটা তখনই সম্ভব যখন আপনি সঠিক পরিকল্পনা করতে পারবেন।

বাজারের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে সতর্ক থাকা

লুব্রিক্যান্ট তেলের ব্যবসা শুরু করার সময় একবার ভালো করে বাজারটা দেখে নিন। যে কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। তাই এই প্রতিযোগিতাকে সঠিকভাবে পরখ না করে ব্যবসা শুরু করা এককথায় অর্থহীন। আর যখন আপনি আপনি ব্যবসা শুরু করতে চলেছেন, তখন আপনাকেও এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেই হবে। শুধু অংশগ্রহণ করলেই হবে না, তার সাথে বাজারের সেরা দাম অফার করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। এই প্রতিযোগিতার বাজারে আপনি যত কম দামে লুব্রিক্যান্ট তেল বিক্রি করতে পারবেন, তত আপনার ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে আরে তাতে আপনার ব্যবসায় মুনাফাও বৃদ্ধি হবে। সেই জন্য আপনাকে ভালো করে জেনে নিতে হবে যে আপনার এলাকায় কারা আপনার সঠিক প্রতিযোগী এবং তারা কত দামে লুব্রিক্যান্ট তেল বিক্রি করছে। তাদের সেই বাজার দরের অপর ভিত্তি করে আপনাকে পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে হবে।

লুব্রিক্যান্ট তেল শিল্প সম্পর্কে আরও বেশী তথ্য সংগ্রহ

যে শিল্পের পণ্য নিয়ে আপনি ব্যবসা শুরু করতে চলেছেন, সেই শিল্প সম্পর্কে আরও একটু তথ্য সংগ্রহ করা থাকলে ব্যবসা করতে সুবিধা হয়। লুব্রিক্যান্ট তেল সম্পর্কে যদি আপনি সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন, তাহলে আপনি জেনে যাবেন যে কোন কোন শিল্পে এটি ব্যবহৃত হয়, কোথায় চাহিদা বেশি আর কোথায় চাহিদা কম। আর এইগুলি আপনার জানা থাকলে আপনি সেই মত আপনার প্রচারের পরিকল্পনা করতে পারবেন। বিজ্ঞাপন দেবার আয়োজন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার ব্যবসাতে মুনাফা বা লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে আরে সেই সাথে ব্যবসাও বড় হয়ে উঠবে। কিন্তু এইসব তথ্য সঠিকভাবে জানা না থাকলে ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তার কারণ আপনি জানতেই পারবেন না যে ঠিক কোথায় ভুলটা হচ্ছে। ফলে ব্যবসায় বৃদ্ধি হবে না। তাই যে কোন ব্যবসা শুরু করার আগে সেই শিল্প সম্পর্কে সঠিক এবং পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

সফল ব্যবসায়ীদের থেকে পরামর্শ নেওয়া

লুব্রিক্যান্ট তেলের ব্যবসা শুরু করার আগে, যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা এই ব্যবসায় সাফল্য লাভ করেছেন, তাঁদের থেকে একটু পরামর্শ বা উপদেশ নেওয়া খুব জরুরী। কারণ তাঁরা আপনাকে তাঁদের অভিজ্ঞতার গল্প বলবেন আর সেখান থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন যে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এই ব্যবসায়। ফলে খুব সহজেই সেই সব পরিস্থিতির জন্য আপনি প্রস্তুত থাকতে পারবেন। শুধু তাই নয়, সেই সব সফল ব্যবসায়ীদের থেকে আপনি ব্যবসা করার বা প্রচারের বা বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন নতুন নতুন পদ্ধতি অর্জন করতে পারেন এবং আপনার ব্যবসায় কাজে লাগাতে পারেন।

সুতরাং, লুব্রিক্যান্ট তেলের একটা সফল ব্যবসা শুরু করা এবং সেখান থেকে মুনাফা অর্জন করার জন্য উপরি উল্লিখিত সব বিষয়গুলিকে ভালো করে বুঝে নিতে হবে এবং তা প্রয়োগ করতে হবে। আর এসব ছাড়াও অনেক কিছু আছে যা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। সেই সব ক্ষেত্রে উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োগ সঠিকভাবে করতে পারলেই আপনার ব্যবসা খুব সুন্দরভাবে সমস্ত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারবে। তবে যে কোনও পরিস্থিতিতেই প্রকৃত পরিকল্পনা না করে কোনোরকম পদক্ষেপ নেওয়া একেবারেই উচিত হবে না, তাতে ভালোর পরিবর্তে খারাপ হবার সম্ভবনাই বেশী।

Related Posts

Leave a Comment