Home ব্যবসায়িক পরামর্শ বৈদ্যুতিক ব্যবসা
বৈদ্যুতিক-ব্যবসা

বৈদ্যুতিক ব্যবসা

by Tandava Krishna

কিভাবে ইলেক্ট্রিক ব্যবসা শুরু করবে

বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির ব্যবসা  অনেক বেশি লাভজনক একটি ব্যবসা। ব্যবসায় ভালো করতে হলে প্রথমে যা দরকার তা হলো একটি সুন্দর পরিকল্পনা। আর তোমার যদি একটি সুন্দর পরিকল্পনা থাকে তবে তুমি এই ব্যবসা করে খুব সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবে। আজকাল ইলেকট্রিক সরঞ্জামাদির দরকার সব বাড়িতেই , সব দোকানে, সব ফ্যাক্টরিতে অর্থাৎ এমন কোন জায়গা নেই  যেখানে এই ইলেকট্রিক সরঞ্জামের দরকার পড়ে না। আর যে হারে আমাদের ইন্ডিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামগুলো বিদ্যুতায়িত হচ্ছে তাতে করে ইন্ডিয়ার সকল জায়গায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির দরকার পড়বে। তুমি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির দোকান যেকোনো ছোট শহর বা গ্রামের কোন বাজারেও শুরু করে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারো। 

ব্যবসাটি কেন করবে?

এতক্ষণে নিশই তুমি বুঝে গেছো আমাদের দেশে ইলেকট্রিক সরঞ্জামাদির চাহিদা ব্যাপক। দিন দিন এই চাহিদার ব্যাপকতা বাড়তেই থাকবে। এখন ধরো তুমি এমন একটা এলাকায় ইলেকট্রিক পণ্যের  ব্যবসা করতে চাও যেটা পুরোপুরি বিদ্যুতের আওতায় চলে এসেছে। তাহলে তুমি কি ব্যবসাটা শুরু করবে না! অবশ্যই করবে কারণ তোমার পুরো এলাকা বিদ্যুৎ এর আওতায় চলে আসার পরেও সেখানে কিন্তু ইলেকট্রিক সরঞ্জামাদির দরকার পড়ছে। কেনোনা সেখানে নতুন নতুন ভবন হচ্ছে, দালানকোঠাবাড়ি তৈরি হচ্ছে। এসব স্থানে ইলেকট্রিক পণ্য যেমনঃ ওয়ারিং ক্যাবল, হোল্ডার, সার্কিট ব্রেকার,সকেট, সুইস, সুইস বোর্ড, লাইট, ফ্যান, পাওয়ার সাপ্লাই বোর্ড এসবের কিন্তু দরকার পড়ছে। আবার কারো এগুলোর মধ্যে কোন কিছু নষ্ট হয়ে গেলেও তো তাকে খুব বিরম্বনায় পরতে হয় তাই সে কোন কিছুর পরিবর্তন করতে চাইলে তোমার কাছে তো তাকে আসতেই হচ্ছে। 

এই ব্যবসাটির জন্য কেমন লোকেশন নির্ধারণ করা উচিত?

ইলেক্ট্রিক পণ্যের ব্যবসা করার জন্য তোমাকে অবশ্যই একটি ভালো লোকেশন ঠিক করতে হবে। যদি দোকানটি ভালো পয়েন্টে না হয় তাহলে ক্রেতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই দোকানের স্থান নির্বাচনে বিশেষ নজর দিতেই হবে। অর্থাৎ যেসব রাস্তায় লোকজন বেশি চলাচল করে এমন স্থান দোকানের জন্য নির্বাচন করলে ভালো হয়। এতে করে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে।

দোকানের আয়তন কেমন হওয়া উচিত?

ইলেক্ট্রিক পণের জন্য দোকানের আয়তন কেমন হবে তা সব সময় নির্ভর করবে তোমার পুঁজির উপর। অর্থাৎ তোমার পুঁজি যদি বেশি হয় তাহলে দোকানের আয়তন বড় নির্ধারণ করতে হবে। আর পুঁজি যদি কম হয় তাহলে ছোট দোকান নির্ধারণ করা উপযুক্ত হবে। দোকান যেমন হোক না কেন তোমার পণ্যের যদি মান ভালো হয়, তুমি যদি ভালো সেবার নিশ্চয়তা দিতে পারো তবে ছোট একটি দোকান দিয়েই ব্যবসাটি শুরু করা যায়।

ডেকারেশন কেমন হবে?

দোকান কিভাবে সাজাবে তা পণ্য বিক্রির উপর কিছুটা নির্ভর করবে। লাইট, সকেট, সুইস, সুইচ বোর্ড তার এমন ছোট পণ্যের জন্য দোকানের চারপাশে মাপমতো ওয়াল ্যাক করে নিতে পারো। সামনের দিকের ্যাকটা টেবিলের মাপে করলে ওই ্যাক টাকেই টেবিল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। এছারাও ফ্যানের মতন বড় সাইজের পণ্য দোকানের সামনের দিকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে পারো। এতে তোমার গ্রাহক সহজে আকৃষ্ট হবে। এছাড়াও তোমার গ্রাহকেরা যেন দোকানটিকে বাহির থেকে দেখতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ডেকোরেশনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দোকানের সাইনবোর্ড যা দোকান কে গ্রাহকদের কাছে পরিচিত করতে সহায়তা করবে। তাই এসব দিক লক্ষ্য রেখে তোমার ইলেকট্রিক পণ্যের দোকান ডেকোরেশন করা উচিত।

ইলেকট্রিক পণ্য কোথায় কিনতে পাবে

তোমার ব্যবসার ব্যবসার পুঁজি যদি কম হয়ে থাকে তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক পণ্য ওয়ারিং ক্যাবল, হোল্ডার, সার্কিট ব্রেকার,সকেট, সুইস, সুইস বোর্ড, লাইট, ফ্যান, পাওয়ার সাপ্লাই বোর্ড  এসব দোকানে রাখলে সবথেকে ভালো হয়। এছাড়া তোমার পুঁজি বিনিয়গের পরিমাণ যদি আরেকটু ভালো হয়। তাহলে এয়ার কুলার, এক্সজাস্ট ফ্যান, টেবিল ফ্যানপানি গরম করার হিটার, গিজার, মিক্সার মেশিন, ইলেকট্রিক লতালা এসবও রাখতে পারো।

তুমি যদি অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চাও তাহলে তোমার আশেপাশের বড় শহরের পাইকারি ইলেকট্রিক দোকানগুলো থেকে ইলেকট্রিক পণ্য সংগ্রহ করতে পারো। তোমার বিনিয়োগ করার মতো পুঁজি বেশি থাক্লে তাহলে তুমি সরাসরি দিল্লি থেকে তোমার দোকানের জন্য ইলেকট্রিক পণ্য সামগ্রী কিনে নিয়ে আসতে পারো। দিল্লিতে চাঁদনী চক মেট্রো স্টেশনের পাশে ভাগিরথ  নামের একটি জায়গা আছে যেখানে হাজারো ইলেকট্রিক পণ্য সামগ্রী দোকান রয়েছে। দোকানীরা পাইকেরি দামে সারা দেশে পণ্য সরবরাহ করে থাকে।  চাইলে তদের কাছ থেকেও তুমি পণ্য কিনতে পারো। 

আজকাল অনলাইনে কেনাবেচার ধুম চলছে। অনলাইনে তোমার দোকানের জন্য ইলেকট্রিক পণ্য সামগ্রী ইন্ডিয়ামার্ট ট্রেডইন্ডিয়া কিংবা অ্যামাজনের মতো বড় শপিং ওয়েবসাইট থেকেও ইলেকট্রিক পণ্য সংগ্রহ করতে পারো। এছাড়াও তুমি ইলেকট্রিক পণ্য উৎপাদন করে এমন কম্পানির ডিলারশিপ নিয়েও ব্যবসা শুরু করতে পারো। 

প্রাথমিক প্রচারপ্রচারণা ক্রেতা সংগ্রহ কি করে করবে?

সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে তোমার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে ব্যবসাটির যাত্রা শুরু করতে হবে। সেইসাথে ক্রেতাদের কয়েক মাস পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা দিতে হবে যেন ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়। তোমার দোকানের প্রথম ১০০ জন ক্রেতাদের নিয়ে শুরু করতে পারো বিশেষ স্মারকের ব্যবস্থা। এতে তোমার দোকানের প্রচার প্রচারণা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। লোকসমাগম হয় এমন স্থানে, আসেপাশের মন্দিরমসজিদের পাশে তোমার দোকানের ব্যানারও টানিয়ে দিতে পারো এতে করে লোকে জানবে এলাকায় নতুন একটা ইলেকট্রিক দোকানের যাত্রা শুরু হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসাযর  একটি আইডি খুলে প্রচার প্রচারণা করতে পারো।  তোমার দোকানের নামে একটি ফেইসবুক পেজ খুলে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিতে পারো। পেজে বিজ্ঞাপন প্রচার করলে তোমার দোকান সম্পর্কে শহরের সবাই যেমন জানতে পারবে তেমনি দোকানের প্রচার প্রচারণাও হয়ে যাবে।

কিভাবে পণ্য বিক্রি করবে?

ইলেকট্রিক পণ্য গুলো ফিক্সড প্রাইজে পণ্য বিক্রি করবে নাকি দড়াদড়ি করে পণ্য বিক্রি করবে এটা তোমার দোকানের লোকেশন এর উপর নির্ভর করবে। ছোট শহর বা গ্রামের দিকের লোকেরা দরকশাকশি করতে বেশি পছন্দ করে তাছাড়া শহরে পণ্য বিক্রি করতে চাইলে ফিক্সড প্রাইজে বিক্রি করা যায়। 

ইলেকট্রিক কাজ করে এমন কিছু ইলেকট্রিশিয়ান এর সাথে সমজোতা করে তোমার দোকানের বিক্রি বাড়াতে পারো। তোমার এলাকায় যেসব ফ্যাক্টরি রয়েছে এবং যেসব নতুন নতুন দালান কোঠা গড়ে উঠেছে তাদের মালিকদের সাথে যোগাযোগ করেও তোমার বিক্রি খুব সহজে বৃদ্ধি করতে পারো। গ্রাহক চাহিবামাত্র ইলেকট্রিশিয়ান সরবরাহ করতে পারো তবে খুব ভালো হয়। এটি তোমার ব্যবসার সুনাম যেমন বৃদ্ধি করবে তেমনি গ্রাহককে তোমার নিকট বাড়বার পণ্য কিনতে প্রভাবিত করবে। 

কর্মী সংগ্রহ এর দরকার আছে কিনা?

একান্তই কর্মচারীর দরকার পড়লে ইলেকট্রিক কাজ জানে এমন কর্মচারী নিয়োগ্ দিতে পারলে খুব ভাল হয়। তাছাড়াও তুমি নিজেই ব্যবসাটা পরিচালোনা করতে পার। আশেপাশের ইলেক্ট্রিশিয়ানদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখলে ওরাই তোমার ব্যবসাকে বাড়াতে সাহায্য করবে।

সম্ভাব্য পুঁজি:

দোকান তোমার নিজের হলে দোকান ভাড়ার প্রয়োজন হবে না অন্যথায় ভাড়ার রুপি লাগবে। দোকান ডেকোরেশন, ইলেকট্রিক পণ্য সামগ্রী ক্রয় বাবদ লক্ষ থেকে . লক্ষ রুপি প্রাথমিক ভাবে ছোট করে শুরু করার জন্য বিনিয়োগ করলেই হয়ে যায়। যাইহোক, পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসাটিকে একবার দাঁড় করাতে পারলে তোমকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। 

লাভ কেমন?

একটি  দোকান থেকে ছোট ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রি করে থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় করা যায়। ফ্যান, এয়ার কুলার, একজাস্ট ফ্যান, এরকম বড় ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রি করে ১৫ থেকে পণ্যভেদে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় করা যেতে পারে। 

তাছাড়া, তুমি যদি কোন কোম্পানির সাথে ব্যবসা শুরু করলে এরিয়াতে তোমার ছোটখাটো একটা হোলসেলার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যার দরুন তোমার আয় আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। 

ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসা করতে তেমন কোন সরকারী অনুমদোনের দরকার পরে না। তোমার আধার কার্ড, প্যান কার্ড, আর ব্যবসার নিবন্ধন দিয়েই তুমি ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। সঠিক পরিকল্পনা তার বাস্তবায়ন করে সহজেই ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবস করে তুমি সফল হতে পারো।

Related Posts

Leave a Comment