Home ব্যবসায়িক পরামর্শ পাদুকা ব্যবসা
পাদুকা-ব্যবসা

পাদুকা ব্যবসা

by Tandava Krishna

কিভাবে জুতার ব্যাবসা শুরু করবেন

আমাদের দেশের জুতার ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বেশ পরিচিত। আমাদের দেশের জুতার বাজার বেশ বড়। বছরে প্রায় কয়েকশত হাজার কোটি টাকার জুতা কেনা বেচা হয়। এই জুতার বাজার কে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে এক ভাগে রয়েছে ব্র্যান্ডের জুতা এবং অপর ভাগে রয়েছে নন ব্র্যান্ডের জুতা। জুতার বাজারে প্রায় ৪০ শতাংশ ব্র্যান্ডের জুতা দখলে রয়েছে এবং বাকি ৬০ শতাংশ নন ব্র্যান্ডের জুতার দখলে জুতার প্রচলিত ব্র্যান্ডের মধ্যে বাটা, এপেক্স ,লুডো ,বে ,ওরিয়ন এগুলো উল্লেখযোগ্য ব্রান্ড তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে বাটা তার পরে রয়েছে এপেক্স। ব্রান্ডের পাশাপাশি ননব্রান্ড বিভিন্ন আঞ্চলিক ব্রান্ড থাকায় জুতার বাজারে সব সময় প্রতিযোগিতা লেগেই আছে। ব্র্যান্ড বলুন বা ননব্র্যান্ড বলুন প্রতিবছর জুতার বাজারে জুতার দাম ১০ শতাংশ করে বেড়েই চলেছে। সারাবছর যত জুতা তৈরি হয় তার প্রায় ২০ শতাংশই ঈদের সময় বিক্রি হয় এবং ৪০ শতাংশ পুজোর সময় বিক্রি হয়। জুতার ব্যবসা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দোকান ভাড়া। জুতার ব্যবসা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই করা যায়। আর অভিজ্ঞতা থাকলে এই ব্যবসাটি আপনি সবার থেকে ভালো করতে পারবেন। অর্থাৎ জুতার ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি করতে কোন অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া বিভিন্ন পাইকারি দোকান থেকে সুলভ মূল্যে জুতা কিনে বিক্রি করা যায়। ব্যবসায় ঝুঁকির পরিমাণ খুবই কম এবং লাভের পরিমাণ অন্য পাঁচটি ব্যবসায়িক ক্ষাতের চেয়ে বেশ ভালো।

ব্যবসাটি কিভাবে শুরু করবে?

ব্যবসার সফলতার জন্য প্রথমেই জুতার ডিজাইন বুঝতে হবে অর্থাৎ গ্রাহকদের কোন জুতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি সেগুলো বুঝে আপনাকে জুতা কিনতে হবে। এছাড়া জুতার সমসাময়িক ইউনিক ডিজাইন তোমাকেকে খুঁজে বের করতে হবে। তোমাককে বিক্রির সময় নয় বরং কেনার সময় কম দামে পণ্য কিনতে হবে। অর্থাৎ পণ্য কেনার সময় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে থেকে অর্থাৎ ভালো পণ্য পাইকারি দামে কিনলে লাভবান হওয়া যাবে।  জুতার ব্যবসা শুরু করার পূর্বে তোমাকে ঠিক করতে হবে তুমি ঠিক কাদের কাছে জুতো বিক্রি করবে। অর্থাৎ  ছেলেদের, মেয়েদের ,নাকি বাচ্চাদের জুতা বিক্রি করতে চাও এটা নির্ধারণ করতে হবে। বেশিরভাগ দোকানে সকলের জন্য জুতা পাওয়া যায়।  কিছু দোকানে মানুষ ছেলেদের জুতা বেশি নজর দেয় এবং কিছু দোকানে মানুষ মেয়েদের জুতায় বেশি নজর দেয়। বিষয়গুলো তোমাকে মার্কেট রিসার্চ করে বের করতে হবে। আর তুমি যেখানে তোমার ব্যবসা শুরু করবে তার আশেপাশে এই ব্যবসায় থাকলে তার দুর্বল সাইটগুলো খুঁজে বের করতে হবে। তোমার পুঁজি বেশি হলে তুমি ভালো ব্র্যান্ডের পণ্য ক্রয় করে বিক্রয় করতে পারবেন যা হতে হবে অবশ্যই ইউনিক ডিজাইন এবং গ্রাহকের পছন্দমত।

এই ব্যবসাটির জন্য কেমন লোকেশন নির্ধারণ করা উচিত?

জুতার ব্যবসা করার জন্য তোমাকে অবশ্যই একটি ভালো লোকেশন ঠিক করতে হবে। যদি দোকানটি ভালো পয়েন্টে না হয় তাহলে জুতার ক্রেতা কমে যাবে এবং জুতো পুরান হয়ে গেলে তা বিক্রিতে ঝামেলায় পড়তে হবে। তাই দোকানের স্থান নির্বাচনে বিশেষ নজর দিতেই হবে। অর্থাৎ যেসব রাস্তায় লোকজন বেশি চলাচল করে এমন স্থান দোকানের জন্য নির্বাচন করলে ভালো হয়। এতে করে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে।

দোকানের আয়তন কেমন হওয়া উচিত?

দোকানের আয়তন কেমন হবে তা সব সময় নির্ভর করবে তোমার পুঁজির উপর। অর্থাৎ পুঁজি যদি বেশি হয় তাহলে দোকানের আয়তন বড় নির্ধারণ করতে হবে। আর পুঁজি যদি কম হয় তাহলে ছোট দোকান নির্ধারণ করা উপযুক্ত হবে। তবে জুতার দোকান যত বড় হয় ততোই ভালো। 

ডেকারেশন কেমন হবে?

ব্যবসার ক্ষেত্রে তোমার জুতার ডিসপ্লে প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখে। দোকান কিভাবে সাজাবে তা  পণ্য বিক্রির উপর কিছুটা নির্ভর করবে। বিক্রি বাড়াতে দোকানের ডিসপ্লে প্রতি ১৫ থেকে ২০ দিন পর পর পরিবর্তন করা উচিত। কেননা এতে নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট হতে পারে। তোমার গ্রাহকেরা যেন দোকানটিকে বাহির থেকে দেখতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।  সেজন্য ভালো মানের পণ্য দিয়ে দোকানে সাজিয়ে রাখতে হবে যেন সহজেই গ্রাহকের চোখে পড়ে। বিশেষ করে তোমার দোকানে সাদা রং বড় সাইজের আয়নার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এতে করে দোকানটি দেখতে যেমন সুন্দর লাগবে তেমনি গ্রাহকদের আকৃষ্ট করবে। এছাড়া ডেকোরেশনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দোকানের সাইনবোর্ড যা দোকান কে গ্রাহকদের কাছে পরিচিত করতে সহায়তা করবে। তাই এসব দিক লক্ষ্য রাখে এই দোকানের ডেকোরেশন করা উচিত।

শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার আছে কিনা?

ব্যবসার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার তেমন কোন দরকার নাই। ব্যাবসায়িক তার লাভ লোকসান, প্রতিদিনের আয় বয়ায়ের  হিসাবটা বুঝতে পারেলেই হলো। ব্যবসায়ের মূল যোগ্যতা হলো সততা। সততার সাথে সাথে এ ব্যবসায় দরকার ভালো আচরণ ধৈর্য যা ক্রেতাদের সাথে বিক্রেতার ভালো সম্পর্কের কারন হবে। ব্যবসা পরিচালনায় সব ব্যবসায়ী নিজস্ব কিছু না কিছু টেকনিক অবলম্বন করে থাকে যা সকল ব্যবসায়ীদের মূলমন্ত্র। আর সেগুলো হতে হবে সততার ভিত্তি সরূপ। 

প্রাথমিক প্রচারপ্রচারণা ক্রেতা সংগ্রহ কি করে করবেন?

সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে তোমার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে ব্যবসাটির যাত্রা শুরু করতে হবে। সেইসাথে ক্রেতাদের কয়েক মাস পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা দিতে হবে যেন ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়। তোমার দোকানের প্রথম ১০০ জন ক্রেতাদের নিয়ে শুরু করতে পারো বিশেষ স্মারকের ব্যবস্থা। এতে তোমার দোকানের প্রচার প্রচারণা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসাযর  একটি আইডি খুলে প্রচার প্রচারণা করতে পারো।  তোমার দোকানের নামে একটি ফেইসবুক পেজ খুলে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিতে পারো। পেজে বিজ্ঞাপন প্রচার করলে তোমার দোকান সম্পর্কে শহরের সবাই যেমন জানতে পারবে তেমনি দোকানের প্রচার প্রচারণাও হয়ে যাবে।

কিভাবে পণ্য বিক্রি করবে?

ফিক্সড প্রাইজে পণ্য বিক্রি করবে নাকি দড়াদড়ি করে পণ্য বিক্রি করবে এটা তোমার দোকানের লোকেশন এর উপর নির্ভর করবে। এই জায়গায় তোমাকে অবশ্যই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়  দিতে হবে। তবে  দোকান যদি শহরে হয়ে থাকে তাহলে ফিক্সড প্রাইজের জুতা বিক্রি করতে পারো। কারণ এতে বেশি টাকা লাভ করতে পারবে আর যদি আপনার দোকান গ্রাম বা ছোট শহরে  হয়ে থাকে তাহলে দড়াদড়ি করে পণ্য বিক্রি করতে পারো যেমন ভারতের মফস্বল জলপাইগুড়ি এলাকা। কেননা গ্রাম এলাকার মানুষ একটু দড়াদড়ি করেই পণ্য ক্রয় করতে পছন্দ করে। আর ফিক্সড প্রাইজ পণ্য বিক্রয় করার একটি সুবিধা হলো কর্মচারীর উপর কিছুটা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসাটি চালাতে পারবে। কর্মচারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তোমাকে সতর্কতাঃ অবলম্বন করতে হবে যেন  বিশ্বস্ত হয়। 

কর্মী সংগ্রহ এর দরকার আছে কিনা?

দোকানে কতজন কর্মচারী থাকবে তা আসলে নির্ভর করবে দোকানের সাইজের উপর। অর্থাৎ তোমার দোকান যদি বড় আয়তনের হয় তবে সে অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে আর যদি  দোকান ছোট আয়তনের হয়ে থাকে তাহলে কর্মচারী নিয়োগ না করে নিজেই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারো। তবে বেশিরভাগ দোকানে একজন বা দুইজন কর্মচারী থেকে থাকে। অনেক সময় কর্মচারীর বেতন ফিক্সড থাকে আবার অনেক সময় বিক্রির ওপর  কমিশন পেয়ে থাকে।

সম্ভাব্য পুঁজি:

ব্যবসার ক্ষেত্রে পুঁজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ যেকোনো ব্যবসাই ডেকোরেট করতে হলে দরকার হয় পুঁজি। পুঁজির ওপর দোকানের আয়তন, দোকানের লোকেশন ,এমনকি পণ্যও নির্ভর করে। অর্থাৎ লোকেশন ভালো জায়গায় হলে সেখানে দোকান নিতে বেশি পুঁজির দরকার এমন কি দোকানের আয়তন বড় করতে হলেও বেশি পুঁজির দরকার। তবে এই ব্যবসাটি শুরু করতে হলে ডেকোরেশন, দোকানভা ভাড়া বাদ দিয়ে শুধু জুতোয় ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ রুপি পুঁজি  বিনিয়োগ করা লাগতে পারে। ব্যবস্থাটিকে একবার দাঁড় করাতে পারলেই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।
এভাবে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে তুমি ব্যবসা শুরু করতে পারো। ব্যবসায় পণ্যগুলোর যেমন ব্যাপক চাহিদা রয়েছে  তেমনি এটি লাভজনক একটি ব্যবসা। তবে মনে রাখতে হবে তোমার ব্যবসায় প্রথম প্রথম ক্রেতা টানতে অনেক পন্থা অবলম্বন করতে হবে সেক্ষেত্রে  ধৈর্যের সাথে ব্যাবসাটি করতে হবে।

Related Posts

Leave a Comment