Home ব্যবসায়িক পরামর্শ টিপারওয়্যার ব্যবসা
টিপারওয়্যার ব্যবসা

টিপারওয়্যার ব্যবসা

by Tandava Krishna

কিভাবে টিপারওয়্যার ব্যবসা শুরু করবেন

টিপারওয়্যার সারা পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত একটি প্লাস্টিক পণ্যের উদ্ভাবন বিপণন কোম্পানি। যারা রান্নাঘর সম্পর্কিত বক্স, প্লেট, পানির মগ, পানির বোতল থেকে শুরু করে  সকল ধরনের ছোটবড় প্লাস্টিকের নিত্য ব্যবহার্য পণ্য বানিয়ে থাকে। টিপারওয়্যার এম এল এম পদ্ধতিতে সরাসরি পণ্য বিপণনের জন্য পৃথিবীর সেরা একটি কোম্পানি। একিসাথে বিশ্বের সকল বয়সী মেয়েদের সব থেকে বড় দল আজ এই কোম্পানির সাথেই কাজ করছে। ১০০ টিরও বেশী দেশের প্রায় ৩০ লক্ষ মেয়েরা ঘর থেকেই এই কোম্পানির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাই একজন সাবলম্বী মেয়ে উদ্যক্তা হতে চাইলে কোন পুঁজি বিনিয়োগ করা ছাড়াই এবং কোন রকম লসের ঝুকি না নিয়ে তুমিও টিপারওয়্যার এর সাথে আজকেই ব্যবসার কাজ শুরু করে দিতে পারো। 

 কিভাবে শুরু করবে?

টিপারওয়্যার মূলত ঘরের নিত্য ব্যবহার্য গুনগত মানসম্পন্ন প্লাস্টিকের সকল জিনিস উৎপাদন করে থাকে। টিপারওয়্যার এর কনসালটেন্ট হিসেবে তাদের পণ্য গুলো বাজারের অন্য সকল প্লাস্টিকের পণ্যের থেকে সবচেয়ে সেরা এই বিষয়টিই তোমাকে প্রমোট করে কোম্পানির সেলস বাড়াতে সাহায্য করতে হবে। এর জন্য প্রথমে তোমাকে কনসালটেন্ট হতে হবে। টিপারওয়্যার কন্সাল্টেন্টদের কোম্পানি মাসিক একটা টার্গেট দিয়ে থাকে। এরপরে তুমি চাইলে নিজের ঘর থেকেই এই সেলস বাড়ানোর কাজটা শুরু করে দিতে পারো। তুমি যত বেশী সেলস করবে তোমার আয়টাও ততো বেশী হবে। এছাড়াও যেহেতু এই কোম্পানিটি এম এল এম পদ্ধতিতে কাজ করে তাই তুই তোমার নিচে বিশ্বস্ত কাউকে নিজের আন্ডারে কাজ করাতে পারলে তাদের সেলস এর অংশ থেকে তুমিও আয় করতে পারবে। মানে এটা হলো বিনা পরিশ্রমে ব্যবসা করা। 

টিপারওয়্যার পণ্যের সেলস কনসালটেন্ট হিসেবে তুমি চাইলে নিজের ঘর থেকেই কোম্পানির সেলস বাড়ানোর জন্য কাজ করতে পারো সেক্ষেত্রে তুমি তোমার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব পাড়া-প্রতিবেশী সবার সাথে টিপারওয়্যার প্লাস্টিক পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে কথা বলে তাদেরকে পণ্য কিনতে আগ্রহী করে তুলতে পারো। এতে করে যখন তারা তোমার ডিলারের কাছ থেকে পণ্য কিনবে তখনই তুমি একটা ভালো অংকের আয় করতে পারবে। 

কিভাবে টিপারওয়্যার এর কনসালটেন্ট হওয়া যায়?

তুমি একদম কোন ধরনের পুঁজি বিনিয়োগ না করেই টিপারওয়্যার এর কনসালটেন্ট হতে পারবে। এর জন্য তোমার শহরের বা এরিয়ার টিপারওয়্যার পণ্যের ডিস্ট্রিবিউটারের কাছে তোমকে যেতে হবে এবং তার কাছ থেকে কনসালটেন্ট এপ্লিকেশন এন্ড এগ্রিমেন্ট ফর্ম সংগ্রহ করে সেটা পূরণ করতে হবে। এর সাথে সাথে তোমাকে একটি সেলফ এটাস্টেড আইডি কার্ড ও আপনার এড্রেস প্রুফ জমা দিতে হবে। 

এরপর টিপারওয়্যার থেকে আপনাকে একটি আইডি কার্ড দেওয়া হবে যেখানে তোমার ছবি, নাম, কান্সাল্টেন্ট কোড নম্বর এবং ডিস্ট্রিবিউটারের নামও থাকবে। পরবর্তীতে এই আঈডি কার্ড ব্যবাহার করেই তুমি কোম্পানির বিভিন্ন প্রগ্রামে অংশ নিতে পারবে এবং বিক্রয় কাজ সমাধা করতে পারবে। 

টিপারওয়্যার কি প্রশিক্ষন দেয়? 

তোমার ব্যবসা সম্পর্কে যদি কোন রকমের জ্ঞান নাও থেকে থাকে তবুও টিপারওয়্যার তোমাকে বিনা পুঁজি ও অভিজ্ঞতায় ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে। সে ক্ষত্রে কোম্পানি নিজেই তোমাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। প্রশিক্ষনে শেখা বিষয়গুলো তোমাকে তোমার নিজের ব্যবসা থেকে আয় বাড়াতে যথেষ্ঠ ভুমিকা পালন করে। টিপারওয়্যার শুধু একবার দু’বার ট্রেইনিং দিয়েই বসে থাকে না তারা প্রয়োজন মত সময়ে সময়ে তাদের ব্যবসায়িক পার্টনারদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষনেরও ব্যবস্থা করে। এছাড়াও তারা ডিস্ট্রিবিটারের সাহায্যে প্রতি সাপ্তাহিক ট্রেইনিং এরও ব্যবস্থা করে থাকে। এছাড়াও টিপারওয়্যার অনলাইন মিটিং এবং ওয়ার্কশপ করিয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে  পাঁচ তারকা হোটেলেও এরা তাদের কর্মীদের জন্য ওয়ার্কশপ ও লান্সের ব্যবস্থা করে থাকে। 

কনসালটেন্ট হিসেবে কি কি বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত?

একজন দক্ষ টিপারওয়্যার কনসালটেন্ট হিসেবে আপনাকে অবশ্যই কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অবশ্যই তোমার অর্ডার গুলো কনসাল্টেন্ট অর্ডার ফর্মে করবে এবং সেগুলো ডিস্ট্রিবিউটারকে দিয়ে এন্ট্রি করিয়ে নিতে হবে। কোন নতুন কাস্টমারের সাথে দেখা করার আগে তার সাথে দেখা করার সময় নিশ্চিত হয়ে তারপর দেখা করতে যেতে হবে। কাস্টমারকে টিপারওয়্যার পণ্যের গুনগত মান, পণ্যের দাম, টাকা পরিশধের শর্ত, আজীবন ওয়ারেন্টি সহ সকল বিষয়ে জানাতে হবে। কাস্টমারকে সবসময় সঠিক বিল ও রশিদের কাগজ দিতে হবে। এছাড়াও, একজন ব্যবসায়িক হিসেবে তোমাকে সকল বিল এর রশিদ রাখতে হবে। মনে রাখবে এই রশিদ গুলোই তোমার এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় ভূমিকা পালন করবে। তাই এগুলো সংরক্ষন করা খুব জরুরী। 

কিভাবে টিপারওয়্যার পণ্যের সেলস বাড়াবে?

টিপারওয়্যার এর অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। তবে তুমি  চাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম গুলো ব্যবহার করে তোমার সেলস বাড়াতে পারো। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যবসায়িক মেয়েদের গ্রুপে এই টিপারওয়্যার প্লাস্টিক পণ্যের গুনাগুন নিয়ে তুমি পোস্ট দিতে পারো। তবে এমন ভাবে পোস্ট দিবে যেন সবাই মনে করে যে পণ্যটি তুমি নিজেই ব্যবহার করো এবং তুমি এই পণ্য ব্যবহার করে শতভাগ সন্তুষ্ট। 

অন্যদিকে প্রাথমিকভাবে তুমি নিজের ঘর থেকেই কোম্পানির সেলস বাড়ানোর জন্য কাজ করতে পারো সেক্ষেত্রে তুমি তোমার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব পাড়া-প্রতিবেশী সবার সাথে টিপারওয়্যার প্লাস্টিক পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে কথা বলে তাদেরকে পণ্য কিনতে আগ্রহী করে তুলতে পারো। 

পুঁজি বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় কি?

টিপারওয়্যার এর পণ্য নিয়ে কোন বড় ধরনের পুঁজি বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। তবে যেহেতু এটি একটি এম এল এম টাইপের ব্যবসা তাই প্রথমে তোমার নিজের ব্যভার এর জন্য কিছু পণ্য প্রাথমিকভাবে কিনতে হতে পারে। তুমি পণ্য কিনে সেটা অন্যের কাছেও বিক্রি করে দিতে পারো। তাছাড়া এরা বিক্রিত পণ্যে আজীবন গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। 

কেমন আয় হয় এবং কিভাবে হয়?  

টিপারওয়্যার ব্যবসায় তুমি নিজেই নিজের মালিক। তুমি যতবেশী কাজ করবে ততোবেশী আয় করতে পারবে। যাইহোক প্রতিটি পণ্য বিক্রি করে তুমি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পেতে পারো। এছাড়াও ব্যক্তিগত ভাবে পণ্য বিক্রি করে আরও ৫ থেকে ১০ শতাংশ সেলিং বোনাসও পেতে পারো। অর্থাৎ, তুমি প্রতিটা পণ্য বিক্রি করে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় করতে পারবে। 

তুমি যদি টিপারওয়্যারে তোমার বন্ধুদের জয়েন করাও তবে তারা যা বিক্রি করবে তা থেকেও তুমি কমিশন পাবে এবং লিডারশিপ বোনাস তো থাকছেই। এছাড়াও যারা আরও ভালো করতে পারে তাদের জন্য টিপারওয়্যার গাড়ী বোনাস হিসেবে দেয়। মাঝে মধ্যে বিদেশ ভ্রমণেরো ব্যবস্থা করে থাকে। 

একদম বাড়িতে বসে খুব সহজেই ব্যবসা করতে চাইলে টিপারওয়্যার আপনাকে সবথেকে বেশী সহয়তা প্রদান করছে। এই ব্যবসায় আপনি চাইলে অনেক বেশী ভালো করতে পারবেন এবং অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা। তাই টিপারওয়্যার এর সবথেকে ভালো মানের প্লাস্টিক পণ্য নিয়ে ব্যবসা করে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল উদ্যগতা। 

Related Posts

Leave a Comment