Home ব্যবসায়িক পরামর্শ জুস বার ব্যবসা
জুস বার ব্যবসা

জুস বার ব্যবসা

by Tandava Krishna

কিভাবে জুস বারের ব্যবসা শুরু করবেন?

জুস বারে  বিভিন্ন ধরণের তাজা ফল বা শাকসব্জি ব্যবহার করে জুস প্রস্তুত করা হয়। অনেক জুস বারে অন্যান্য ধরণের স্বাস্থ্যকর খাদ্য পণ্যও সরবরাহ করা হয় এবং কিছু জায়গায় তারা তাদের গ্রাহকদের পণ্যগুলি উপভোগ করার সময় বসার ব্যবস্থাও করে থাকে।

কিভাবে আপনার নিজের জুস বার ব্যবসা শুরু করবেন এবং এটি আপনার পক্ষে উপযুক্ত কিনা চলুন তা দেখা যাক।

কিভাবে জুস বার কাজ করে তা শিখুনঃ

নিজে একটি জুস বার ব্যবসা  শুরু করার আগে কিভাবে জুস বারগুলি পরিচালনা করতে হবে সেই সম্পর্কে আপনাকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং জ্ঞান লাভ করতে হবে। জুস বারে কোল্ড-প্রেস মেশিন বা তাজা ফলের রস এবং ফলের স্মুথির মতো সতেজ প্রস্তুত পানীয়গুলি সরবরাহ করে। অন্যান্য জনপ্রিয় খাবারগুলির মধ্যে রয়েছে প্রোটিন শেক, ভিটামিনযুক্ত জুস এবং স্যান্ডউইচ এবং স্যালাড। 

ব্যবসার পরিকল্পনাঃ

একটি সফল ব্যবসার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা। ব্যবসাকে বড় করে তোলার পিছনে এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে অজানা অনেক নিয়ন্ত্রকগুলিকে জানার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরিকল্পনার সময় নিম্নলিখিত কয়েকটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবেঃ

  • আপনি কি ধরণের জুস বারের ব্যবসা শুরু করতে চান?
  • ব্যবসা শুরুর জন্য কত টাকা প্রয়োজন?
  • কোন কোন ক্রেতারা আপনার লক্ষ্যে আছেন?
  • আপনি ক্রেতাদের থেকে কত টাকা চাইবেন?
  • আপনার ব্যবসার নাম কি হবে?

আপনি কি ধরণের জুস বারের ব্যবসা শুরু করতে চান?

সাধারণত, আপনি দুই ধরণের জুস বারের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এক ছোট ক্যাফের মতো (স্থায়ী) এবং স্ট্রিট ফুড টাইপ (চলমান)। যাইহোক, একটি জুস বার বলতে একটি ছোট জায়গা বোঝায় যেখানে বিভিন্ন ধরণের পানীয় এবং কিছু খাবার দ্রব্যকে বোঝায়। যখন কোন জুস বারে কেক, চকোলেট, কফি থাকে তখন একটি জুস বার কিছুটা ভিন্ন ধরণের ব্যবসায়ে পরিণত হয়।

একটি চলমান ট্রাক গ্রীষ্মের জন্য আদর্শ ব্যবসা। এই ধরণের ট্রাকে জুসার এবং রেফ্রিজারেটর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। যদিও জুস বার ব্যবসা সারা বছরের জন্য উপযুক্ত কিন্তু এইধরনের চলমান ট্রাকে জুসের ব্যবসা শুধুমাত্র গরমকালের জন্যই আদর্শ। এছাড়া আপনি কোন শপিংমলে বা লোকবহুল কোন জায়গায় স্থায়ী দোকান খুলতে পারেন। এই ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করবে না।

 ব্যবসা শুরুর  ক্ষেত্রে ব্যয়গুলি কি কিঃ

প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স, অনুমতি এবং বীমা সহ  কম সময়ে জুস বার ব্যবসা শুরু করা যায়। আপনার জুস বারটি অন্য কোনও ব্যবসায়ের যেমন ফিটনেস সেন্টারের অংশ কিনা নাকি আপনি নিজস্ব ভাবে শুরু করছেন তার ওপর ও ব্যয়  নির্ভর করে। আপনাকে এমন একটি জায়গা ভাড়া নিতে হবে যেখানে ফল এবং শাকসব্জি ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা এবং জলের ব্যবস্থা থাকবে । এর পাশাপাশি জুস তৈরি করার জন্য প্রয়োজন জুসার,শাকসব্জির জন্য জুসার এবং কোল্ড-প্রেস মেশিন প্রয়োজন। জুস পরিবেশনের জন্য আপনার কাপ এবং স্ট্রয়ের এর ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবেশের কথা খেয়াল রেখে আপনি বায়োডিগ্রেডেবল কাপের ব্যবস্থা করতে পারেন। 

ব্যবসার চলমান ব্যয়গুলি কি কিঃ

একটি ব্যবসার ক্ষেত্রে এমন কিছু খরচ থাকে যা নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে নিয়মিত হয়ে থাকে । জুস বার ব্যবসার ক্ষেত্রে সেই রকম চলমান ব্যয়গুলি নীচে বলা হলঃ

  • দোকান ঘর ভাড়া ( যদি নিজস্ব দোকান না থাকে)
  • উপকরণের দাম
  • কর্মচারীদের বেতন
  • সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ
  • পিওএস / ইনভেন্টরি সফটওয়্যার পরিষেবা

কারা আপনার সম্ভাব্য গ্রাহক হবেনঃ

স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরাই আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকদের জন্য মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।

জুস বারের ব্যবসার থেকে কীভাবে টাকা পাওয়া যায়?

একটি জুস বার ব্যবসায় গ্রাহকদের তাজা, মানসম্পন্ন জুস পরিবেশনের বিনিময়ের মাধ্যমে আপনি অর্থোপার্জন করবেন পানীয়গুলির মূল্য নির্ধারণ অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে করা হয় যেমন কি কি উপাদান ব্যবহার করতে হবে ,প্রস্তুত করতে কতক্ষণ সময় লাগবে,এবং কতটা দক্ষতার প্রয়োজন। 

ক্রেতাদের থেকে আপনি কত টাকা নেবেন?

অধিকাংশ জুস বার ব্যবসায়ীরা তাদের চলমান ব্যয় এবং ব্যবসায় লাভ অর্জনের জন্য জুসের নির্ধারিত মূল্যের ৩০ শতাংশ উপাদানের জন্য ব্যয় করে। 

সুপ্রতিষ্ঠিত, সফল জুস বার ব্যবসায়ীরা ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত লাভ অর্জন করে থাকে। 

আপনার ব্যবসার নাম কি হবে?

ব্যবসার জন্য একটি সঠিক নাম থাকা খুব ই প্রয়োজনীয়, আইনি নিবন্ধিকরনের আগে ইন্টারনেটে খুঁজে নিন আপনার পছন্দের নামটি উপলব্ধ কিনা। 

নিজের প্রতিযোগীদের চিনুনঃ

পরবর্তী ধাপ হল নিজের প্রতিযোগীদের চেনা। আপনি যত ভালো করে আপনার প্রতিযোগীদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন তত ভালো আপনি তাদেরকে চিনতে পারবেন।এবং ব্যবসায় তাদের দুর্বল জায়গা খুঁজে নিজেকে আর ভালো করে প্রস্তুত করতে পারবেন এবং অনায়াসে তাদেরকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারবেন। আপনার এলাকায় কটা জুস বার আছে এবং তারা কি কি  জুস সরবরাহ করছে তা জেনে আপনি নিজের ব্যবসার মেনু  সম্পর্কে  একটি ধারণা করতে পারবেন।  

দ্বিতীয় ধাপঃআইনি স্বত্তা গঠন করা

আইনি স্বত্তা গঠন করার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসাকে আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। কেউ যদি আপনার ব্যবসার বিরুদ্ধে কোন মামলা করে আইনি স্বত্তা গঠন করা থাকলে আপনি ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন না।

তৃতীয় ধাপঃকরের নথিভুক্তকরন

পরবর্তী ধাপ হল আপনার ব্যবসাকে করের জন্য নথিভুক্তকরন করা।

চতুর্থ ধাপঃব্যাংক এ কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  খোলা এবং ক্রেডিট কার্ড এর জন্য আবেদন করা

ব্যবসার সমস্ত লেনদেন করার জন্য কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকা খুবই প্রয়োজনীয়। এর ফলে আপনার ব্যাক্তিগত টাকা এবং সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে। এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকলে ব্যবসার হিসেবনিকেশ করতে আর খাজনা দিতে অনেক সুবিধা হবে।

ব্যবসার জন্য একটা আলাদা ক্রেডিট কার্ড থাকলে সমস্ত খরচ এক জায়গায় থাকে যার ফলে পরবর্তী তে ব্যবসার জন্য টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে সুবিধা হয়।এবং ব্যবসার জন্য ক্রেডিট কার্ড থাকলে আপনার ব্যাক্তিগত খরচও আলাদা করা সম্ভব হয়।

পঞ্চম ধাপ-ব্যবসার হিসেবরক্ষণঃ

ব্যবসার সব খরচ এবং আয়ের উৎস সঠিকভাবে লিখে রাখলে তা ব্যবসাকে বুঝতে অনেক সাহায্য করে।এবং পরবর্তীতে করের হিসেব করতেও অনেক সুবিধা হয়।

ষষ্ঠ ধাপ-প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করাঃ

আপনার ব্যবসায় যাতে কোন অসুবিধার সৃষ্টি না হয় বা আপনার ব্যবসা যাতে অবৈধ হিসেবে বিচার্য না হয় সেই কারণে প্রয়োজনীয় সকল অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করুন।

সপ্তম ধাপ-ব্যবসার  বীমাকরনঃ 

আপনার ব্যবসাকে সঠিক ভাবে চালু রাখার জন্য যেভাবে অনুমতি এবং লাইসেন্স দরকার সেইভাবেই বীমার ও প্রয়োজন। ব্যবসার বীমা থাকলে অনেক ক্ষতির থেকে ব্যবসাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। 

অষ্টম ধাপ-নিজের ব্র্যান্ডকে সঠিকভাবে বর্ণনা করাঃ

আপনার ব্যবসা কেমন এবং আপনার ব্যবসাকে সবাই কীভাবে গ্রহন করছে তাই আপনার ব্র্যান্ডকে নির্ধারণ করবে এবং প্রতিযোগীদের থেকে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

ব্যবসার প্রচারঃ

জুস বার ব্যবসায় প্রচারের অন্যতম সেরা উপায় হ’ল অন্যান্য স্থানীয় ব্যবসাগুলির সাথে অংশীদারি করা যেমন জিম, সুস্থতা কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য খাদ্য দোকান।  এছাড়া স্থানীয় কৃষকের বাজারের সাথে অংশীদারি করার মাধ্যমে আপনি উন্নত মানের এবং বাজারের থেকে আনেক কম মুল্যে উপাদান সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন। 

নবম ধাপঃ ওয়েবে উপস্থিতি স্থাপন করা

ব্যবসা সংক্রান্ত একটা ওয়েবসাইট ক্রেতাদেরকে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানতে অনেক সাহায্য করে। সামাজিক মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে আপনি নতুন অনেক ক্রেতাদেরকেও আকৃষ্ট করতে পারবেন।

এইগুলিই হল আপনার জুস বার ব্যবসা শুরু করার কয়েকটি প্রধান ধাপ।

 

Related Posts

Leave a Comment