Home ব্যবসায়িক পরামর্শ ছোট ব্যবসা পরিকল্পনা
ছোট ব্যবসা পরিকল্পনা

ছোট ব্যবসা পরিকল্পনা

by Tandava Krishna

ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনার বিষয়ে আপনার কি কি জানা প্রয়োজন

কোন বাড়িকে মজবুতভাবে বানাতে গেলে তার ভিতকে যেমন শক্ত করে গড়ে তুলতে হয়, তেমনই কোন ব্যাবসা শুরু করতে বা চালিয়ে নিয়ে যেতে গেলে তার জন্য মজবুত পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। আর আপনার এই ব্যাবসা যখন আকারে ক্ষুদ্র হয়, তখন এই পরিকল্পনা সম্পুর্নভাবে আপনাকে এবং আপনার ব্যাবসার অন্যান্ন অংশীদারদের করতে হয়। আর সেই কারনেই এই কাজটি কোন নূতন উদ্যোক্তার জন্য একটু কঠিন হয়ে দাড়ায়।

তাই কোন ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা করার সময়ে আপনাকে সবসময়ে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস মাথায় রাখতে হবে। আপনাকে সবসময়ে নিজের পরিকল্পনায় কিছু জিনিস অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যা একটি ক্ষুদ্র ব্যাবসার জন্য অপরিহার্জ। আপনাকে এও দেখতে হবে যে আপনার পরিকল্পনায় জেন এমন কিছু না থাকে যা আপনার ক্ষুদ্র ব্যাবসার উন্নতির বদলে তার ক্ষতিসাধন করবে। তাই আসুন আমরা জেনে নিই সেই সমস্ত তথ্য যার সাহাজ্যে আপনি সফল্ভাবে ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা করতে পারবেন।

ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা কি?

ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা বলতে বঝায় সেই নথিকে, যেখানে আপনার ব্যাবসা, পন্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা থাকে। এই নথি প্রাথমিকভাবে আপনার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিরা ব্যাবহার করেন নিজস্ব কর্মপন্থা বেছে নেওয়ার জন্য। তবে এখানেই এই নথির কাজ সেশ নয়। এরপর এই নথি ব্যাবহার করে আপনার ব্যাবসা সম্পর্কে আগ্রহি ব্যাক্তিবর্গ আপনার ব্যাবসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। এর ফলে তারা যখন এই সিদ্ধান্ত নিতে চান যে তারা আপনার সাথে পরবর্তী কালে ব্যাবসা করবেন কিনা। সেই কারনে আপনার ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনাকে সহজে বধগম্যকরে তুলতে হবে।

প্রাথমিক স্তরে ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা সংক্রান্ত দু এক কথা

ক্ষুদ্র ব্যাবসা সংক্রান্ত অধিকাংশ পরিকল্পনা করা হয় তার প্রাথমিক স্তরে। আর প্রাথমিক স্তরে যদি এই পরিকল্পনায় কোন ভুল থাকে, তবে সেই কারনে ব্যাবসা এক বড় আঘাত পেতে পারে। এই কারনে প্রাথমিক স্তরে ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা করার সময়ে নিম্নলিখিত বিশয়গুলির কথা ভেবে সেই অনুযায়ী আপনাকে আপনার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

১)বাজার সমীক্ষা-

যখনই আপনি কোন নতুন ক্ষুদ্র ব্যাবসা শুরু করতে চাইবেন, আপনাকে আগে জানতে হবে, যে ধরনের ব্যাবসা আপনি করতে চাইছেন, সেই ধরনের অন্যান্ন ব্যাবসা বাজারে উপলব্ধ আছে কিনা। তার পাসাপাসি আপনাকে জানতে হবে আপনার ব্যাবসায়ে উন্নতির সুজগ কতটা। আপনি যদি এই তহ্য গুলি সঠিকভাবে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে পারেন, তবে আপনার ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা মজবুত হবে।

২)অর্থসংস্থান-  

যেকোনো আকার এবং যেকোনো ধরনের ব্যাবসাতেই অর্থসংস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। তার কারনর যা ব্যাবসাই আমরা শুরু করতে চাই না কেন, অর্থ ছাড়া এই কাজ খুবই কঠিন, বা এক কথায় অসম্ভব। তবে এই কাজ ক্ষুদ্র ব্যাবসার ক্ষেত্রে আর গুরুত্বপূর্ন। তার কারন ব্যাবসার আকার ক্ষুদ্র হলে সেখানে অন্য কেউ লগ্নি করতে চায় না। তাই ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনার সময়ে আপনাকে আগে থেকে সেই উপায় বার করতে হবে যার সাহাজ্যে আপনি আপার ব্যাবসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন।

৩)প্রধান কার্জকলাপ-

আপনার তৈরি করা ব্যাবসায়িক পরিকল্পনার ভিত্তিতে ব্যাবসা বহির্ভূত ব্যাক্তিবর্গ আপনার ব্যাবসা সম্পর্কে জানতে পারবে। এবং সেই জানার ভিত্তিতেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে যে তারা আপনার সাথে ব্যাবসা করতে বা আপনার ব্যাবসায় লগ্নি করতে ইচ্ছুক কিনা। তাই আপনাকে এমনভাবে ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে যেন আপনার ব্যাবসা সংক্রান্ত মূল কার্জকলাপগুলির সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ননা করা থাকে।

৪)পন্য ও সেবা-

ব্যাবসার অর্থই হল নির্দিষ্ট মুল্যের বিনিময়ে কোন পন্য বা সেবা বিক্রয় করা। তাই আপনি যখন কোন ব্যাবসার পরিকল্পনা করবেন, তখন আপনাকে সেখানে সেই সমস্ত পন্য বা সেবার কথা উল্লেখ করতেই হবে যা আপনারা প্রদান করতে সক্ষম। যদি তা হয়, কোন ব্যাক্তি আপনার ব্যাবসার পরিকল্পনা পড়ে জানতে পারবে যে আপনার ব্যাসার বিসয়বস্তু কি এবং সেই অনুযায়ী আপনার সাথে লেনদেন করার কথা ভাববে।

৫)লক্ষ-

যেকোনো ব্যাবসার একটি নির্দিস্ট লক্ষ থাকে, এবং সেই লক্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সেই ব্যাবসার কর্মীবৃন্দ নিজস্ব কর্মসুচি বেছে নেন। এ ছাড়াও ব্যাঙ্কের কাছে যখন ঋণের জন্য দাবি করা হয়, অথবা অন্য কোন ব্যাক্তিকে আপনার ব্যাবসায় অত্থ লগ্নি করানর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন তাদের এই বিষয়ে জানা দরকার যে আপনার ব্যাবসার লক্ষ কি। এবঙ্গেই কারনাপ্নার উছিত আপনার ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনায় আপনার লক্ষের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া যাতে তারা খুব সহজে আপনার ব্যাবাসার বিষয়ে আকৃষ্ট হন এবং সেখানে অর্থ লগ্নি করতে ইচ্ছুক হয়ে ওঠেন।

ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনার সুবিধা

ক্ষুদ্র ব্যাবসা যখন নিজের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে মজবুত ও শক্তিশালী বানায়, তখন তারা অনেক এমন সুবিধা পায় যা অন্যান ক্ষুদ্র ব্যাবসায়িরা পায় না। আর আপনি যখন নিজের ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা শুরু করার কথা ভাবছেন, তখন আপনার জেনে নেওয়া দরকার যে আপনি ক্ষুদ্র ব্যাবসা শুরু করলে কি কি সুবিধা পাবেন।

১)অর্থ ব্যাবস্থপনা-

অর্থ ব্যাবস্থাপনার অর্থ হল আপনার সিমীত মূলধনের সঠিক ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে তার থেকে সর্বাধিক সুবিধা লাভ করা। আর এই কাজ আর সহজ হয়ে যায় যদি আপনি আপনার ক্ষুদ্র ব্যাবসার জন্য একটি মজবুত পরিকল্পনা তৈরি করেন। এতে আপনার অর্থের সাস্রয় ও হয়, তার পাসাপাসি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আপনি আপনার ব্যাবসায়িক কাজকর্ম সম্পাদন করতে পারেন।

২)পরিবর্তনের সুবিধা-

আপনার কাছে যখন সমগ্র ব্যাবসার বিবরণ এক যায়গায় থাকে, তখন আপনার পক্ষে সেই ব্যাবসার বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে নিতে সুবিধা হয়। ফলে আপনি সহজেই জানতে পারেন যে আপনার ব্যাবসায় নত্ন কি কি প্রয়োজন এবং আপনার ব্যাবসায় এমন কি কি আছে যার আর কোন প্রয়োজন নেই। আর এই জ্ঞান থাকলে আপনার কাছে প্রজনীয় পরিবর্তন করা খুবই সহজ হয়ে যাবে।

৩)বাস্তববাদী লক্ষ-

আমরা আগেই বলেছি যে কোন ব্যাবসার উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ হল তার লক্ষ। তবে আমতা যদি নিজেদের ব্যাবসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত না থাকি তাহলে আমরা নিজেদের জন্য এমন সমস্ত লক্ষ বেছে নিই যা আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে আপনার ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ে যদি একটি পরিকল্পনা করা থাকে, তবে আপনি যে লক্ষগুলি নিজের জন্য বেছে নেবেন তা আপনার নিজের কর্ম খমতার মধ্যে হবে এবং তাদের আপনি খুব সহজেই পুরন করতে পারবেন।

৪)ব্যাবসায়িক নীতি-  

যেকোনো ব্যাবসার ক্ষেত্রে তার ব্যাবসায়িক নীতি খুব গুরুত্বপুর্ণ। তবে কোন ব্যাবসার পরিকল্পনা না থাকলে সেই ব্যাবসার নীতি নিরধারন করা খুবই কঠিন হয়ে দাড়ায়। আর ক্ষুদ্র ব্যাবসার ক্ষেত্রে এই নীতি নির্ধারনের কাজ যেহেতু খুব সামান্য কয়েকজন ব্যাক্তিকে করতে হয় তাই  এই কাজ আরও কঠিন হয়ে দাড়ায় তাদের জন্য। এই কারনে ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা ব্যাবসায়িক নীতি গঠনে বিশেষ সহায়তা করে এবং ব্যাবসার দ্রুত উন্নতিতে সহায়তা করে।

এতক্ষন আমরা ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য পেলাম যা আমাদের এতা বুঝতে সাহায্য করল যে ক্ষুদ্র ব্যাবসার পরিকল্পনা কি এবং এই ধরনের পরিকল্পনা আপনার ব্যাবসার উন্নতিতে কিভাবে আপনাকে সহায়তা করতে পারে। এবং এই সময়ে যদি আপনি নিজের ক্ষুদ্র ব্যাবসা পরিকল্পনা শুরু করেন, তবে সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত তহ্য আপনার কাছে এখন আছে। তাই আপনি ইচ্ছে করলে অতি সহজেই আপনার ক্ষুদ্র ব্যাবসার জন্য একটি পরিকল্পনা গড়ে তুলতে পারবেন। তবে অপেক্ষা কিসের? আজই আপনার নিজের ক্ষুদ্র ব্যাবসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গথন করুন এবং নিজের ব্যাবসাকে উন্নতির সিখরে নিয়ে যান।

Related Posts

Leave a Comment