Home ব্যবসায়িক পরামর্শ খাদ্য ব্যবসা
খাদ্য ব্যবসা

খাদ্য ব্যবসা

by Tandava Krishna

ঘরে ঘরে সবজির ব্যবসা শুরু করার পদক্ষেপ কি কি হতে পারে

সবজিকে আমাদের রোজকার জীবনের একটা পারিপার্শ্বিক অঙ্গ বলা যেতে পারে আর আমরা বাঙালিদের জীবনে ভাত বা রুটি জাতীয় যে কোনোটির সাথে বিভিন্ন রকমের তরকারি না হলে ঠিক চলে নাঅনুষ্ঠান বাড়ি থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিদিনের মেনুতে শাক দিয়ে শুরু করে শেষ পর্যন্ত চাটনিতে শেষ হয় কিন্তু যে আইটেমই হোক না কেনো সবকিছুরই আসল উপাদান তরি তরকারি এমনকি ননভেজ খাবার বানাতেও যে উপকরণ গুলি লাগে সেই গুলিও সবজির অন্তর্ভুক্ত তাই সবজির ব্যবসাকে ছোট করে ভাবার কোনো দরকার নেই ব্যস্ততাময় জীবনে অনেকেই বাজার থেকে শাক সবজি কেনার সময় পান না, বা  যে ফিক্সড টাইমে বাজার বসে অনেকেই হয়তো সেই টাইম বাজারে পৌঁছাতে পারে না  তাদের কাছে এই রানিং বা চলমান বাজারই একমাত্র ভরসাআর শুধুমাত্র কোনো নির্দিষ্ট রাজ্য নয় , সমস্ত রাজ্যেই এভাবে ঘুরে ঘুরে শাক সবজি বিক্রি করার একটা চল আছে।  সব বয়সের মানুষই এই ব্যবসা করতে পারে , বয়স্ক হতে হবে বা ইয়ং হতে হবে ,এরকম কোনো ব্যাপার নেই।  

যেহুতু অল্প মূলধন এবং অল্প সাজসরঞ্জামে সবজি ব্যবসা শুরু করা যায় অনেকেই সবজি ব্যবসার উপর আগ্রহ দেখাচ্ছেনকারণ এটা আমরা সবাই বুঝি অন্য জিনিস সেটা অন্য খাবার বা পোশাক যাই হোক না কিনলেও শাকসবজি আমাদের কিনতেই হবেঅনেক মানুষ সারাজীবন মাছ মাংস জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকেন  তাদের কাছে শাক সবজিই অন্যতম খাবারের মধ্যে পড়ে  ভিটামিন, মিনারেল, নিউট্রিয়েন্টস, প্রোটিন সব দিক থেকে সবজি আমাদের জীবনে একটা অতি প্রয়োজনীয় খাবার জিনিসের মধ্যে পড়ে তাই তুমি যদি ভাবো সবজির ব্যবসা করবে তোমাকে হার্দিক অভিনন্দন  প্রথমে একটা সঠিক প্ল্যানের মধ্যে কোন কাজ আগে করলে সুবিধা, কোন কাজ পরে করলে চলবে এসব তোমাকেই ঠিক করতে হবে   তাই কিভাবে ব্যবসা শুরু করবে থেকে শুরু করে কিভাবে অতি দ্রুত লাভ করতে শুরু করবে সবটাই তোমার প্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত  

এবার বলি পদক্ষেপ গুলির কথা – 

  • একটা সুন্দর প্ল্যান তোমার অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে তোমাকে রক্ষা করতে পারে দেখা যায় একটা প্ল্যানের অভাবে অনেক সময় প্রচেষ্টা বেকার হয়ে যায়  তাই যে টাকাটা  তুমি প্রথমেই ব্যাবসায় দিয়ে শুরু করবে সেটা যেন সফলভাবে তোমার হাতে লাভ হিসাবে ফিরে আসে সেটাই হবে তোমার কাছে সবথেকে বড়ো উপহার   যে কোনো ব্যবসা শুরু করার সময়ই খুব কঠিন , বা কষ্টসাধ্য বলে মনে হয় , কিন্তু সাহস রেখে এগিয়ে যেতে হয়  যেহেতু তোমার ব্যবসা ঘুরে ঘুরে করতে হবে তাই প্রথমেই একটা যানের ব্যবস্থা তোমাকে করতে হবে যাতে করে মাল নিয়ে ঘোরা যায়  
  • দ্বিতীয়তঃ , সবজি কোথা থেকে সস্তা দামে এবং ফ্রেশ পাবে সেটা তোমার ব্যবসা শুরু করার আগে দেখে নাও  যেহুতু সবজিব্যাবসায়ীর সংখ্যা এখন বাজারে প্রচুর তাই তুমি যদি বেশি দামে সবজি বিক্রি করো তোমার ক্রেতার সংখ্যা কমে যাবে প্রথম অবস্থায় তোমার দাম সীমিত রাখতে হবে এবং ফ্রেশ জিনিস কিনতে হবে, যেদিনের জিনিস সেদিন বিক্রি না হলে সেগুলোকে সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এর জন্যে  তোমার প্রথমে কোনো জিনিস বেশি পরিমানে না তোলাই ভালো তুমি কিছুদিন ঘোরার পর অনায়াসেই বুঝতে পারবে কোন সবজির চাহিদা বেশি কোন কোন সবজির চাহিদা কম  সেইটা বুঝে গেলে তোমার সুবিধা হবে এছাড়া তুমি তোমার আশেপাশের পাইকারি বাজার গুলোতে একটু খোঁজ করতে পারো কোথায় কোন সবজির দাম কম, তুমি তোমার সুবিধা মতো জিনিস কোথা থেকে পাবে
  • পরবর্তী ধাপে তোমাকে ভাবতে হবে তোমার যানের ব্যাপারে, সবজি কেনার সময় সব মানুষ চান যেন সেটা যথেষ্ট ফ্রেশ থাকে, সবুজ হয়,অনেকে নিজের হাতে খুঁজে কিনতে পছন্দ করেন, তাই সবজির গাড়ি সবসময় খোলা টাইপের হতে হবে, যাতে সব মানুষ চারদিক থেকে ভিড় জমাতে পারে, দেখতে পারে এবং তাদের আগ্রহ তোমার কাছে জানতে পারেতবে তোমাকে সবাইকে হাসিমুখে অভর্থনা জানাতে হবে, অনেকেই তোমার কাছে এসে দাম জিজ্ঞাসা করবে , বা সবজি নিয়ে কিছু জানতেও পারে, কিন্তু তার পরে সে হয়তো কোনো জিনিস তোমার গাড়ি থেকে কিনলো না , এক্ষেত্রে রাগ করলে বা মন খারাপ করলে চলবে না, সব ব্যবসাতেই এগুলো হতে থাকে
  • পরবর্তী স্তরে তোমাকে এরিয়া নিয়ে ভাবতে হবে অর্থাৎ কোথায় তুমি তোমার সবজির গাড়ি নিয়ে ঘুরবে, তবে বাড়ি থেকে খুব দূরে না যাওয়াই ভালো  কারণ প্রতিদিন সেই রাস্তা তোমাকে যেতে হবে গাড়ি নিয়ে ফিরে আসতে হবে 
  • ধীরে ধীরে মানুষ তোমাকে যখন চিনে যাবে,তারা তোমার আসার জন্যে সেই সময় অপেক্ষা করবে, দরকার হলে তোমার রেগুলারের কাস্টমারদের কে তোমার ফোন নম্বর দিয়ে দিতে পারো যারা তোমাকে তাদের দরকারে কন্টাক্ট করতে পারে
  •  যেহেতু প্রচুর মানুষ তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী তাই বিভিন্ন রকমের সবজির কালেকশন রাখতে হবেকারণ কে কখন কোন সবজি চাইবে তুমি জানোনা।  তাই ন্যায্য দামে সব রকমের ফ্রেশ সবজির একটা কালেকশন রাখতে পারলে তোমার নামও হয়ে যাবে আর ব্যাবসাও ভালো ভাবে দাঁড়িয়ে যাবে
  • তুমি যদি কিছুদিনের জন্যে তোমার সবজির ব্যবসা করতে চাও তাহলে অন্য কথা কিন্তু যদি একটা দীর্ঘ সময়ের জন্যে এই ব্যবসা করতে চাও , তাহলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে যে জায়গায় প্রথম দিন সবজি বিক্রি করেছো তার পর দিনও তোমাকে সেই জায়গায় যেতে হবে এছাড়া কেউ যদি তোমার সবজি নিয়ে অভিযোগ করে সেটা শুনে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, এক্ষেত্রে টাকা পয়সা ফেরত দেয়ার থেকে কিছুটা অন্য সবজি দিয়ে দেয়া অনেক ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে 
  • এছাড়া অনেকে বলতেই পারে এই সব্জিটা কিনবো কিন্তু আজ আমার কাছে এই নির্দিষ্ট পরিমান টাকা নেই তখন তোমাকে দেখতে হবে সেটা কোনো বাড়ি কিনা , তবে যদি সেটা তোমার একেবারে অচেনা কেউ হয় কোন রকমে কৌশলে তার থেকে সরে যাওয়াই ভালো হবে বাড়ি হলে তুমি তার থেকে পরের দিন সেই টাকাটা নিতে পারবে কিন্তু রাস্তায় কেউ বাকিতে জিনিস নিলে সেটা ফেরত পাওয়া যাবে কিনা তোমাকে সতর্ক থাকতে হবে  
  • স্বাভাবিক ভাবে মানুষ সকালের দিকে বাজারহাট করতে ভালোবাসেন, তাই যতটা সম্ভব তোমাকে ভোরবেলা বেরিয়ে পড়তে হবে  যে পাইকারি মার্কেট থেকে তুমি জিনিস কিনবে সেখান থেকে তোমার পছন্দমতো সবজি কিনে নির্দিষ্ট রাস্তা ধরে জিনিস বিক্রয় করতে হবেসকালের দিকে এই সবজি গুলোও ফ্রেশ থাকবে , মানুষ তা দেখে কেনার অগ্রগ দেখাবে ,কিন্তু যত বেলা বাড়বে তরি তরকারি গুলো সেই ফ্রেশ ভাব থাকবে না ফলে মানুষের চোখে সেগুলো আকর্ষিত হবে না তাই সকালের দিকে দ্রুততার সাথে তোমাকে ব্যাবসার হালহকিকৎ বুঝতে হবেএই পদ্ধতিতে তুমি সঠিক দাম পাবে কারণ বেলা বাড়ার সাথে সাথে দামও কমতে থাকে
  • শেষে আসি তোমার মূলধন জোগাড়ের কথায়  তোমার যদি নিজস্য খোলা ভ্যান থাকে তাহলে তো চিন্তায় নেই কিন্তু না থাকলে কোথায় পাওয়া যে কেনার ব্যবস্থা করো বা না কিনতে পারলে ভাড়া নেয়ার চেষ্টা করতে পারো এতে প্রথমদিকে লাভ না হলেও আস্তে আস্তে টাকা জমিয়ে নিজের ভ্যান কিনতে পারবে আর সবজি কেনার জন্যে তোমার যে মালিক তার সাথে কথা বলতে পারো, যে তুমি বিক্রয় করার পর তাকে তার প্রাপ্য ফিরিয়ে দেবেবা প্রথমে তুমি তোমার সাধ্যমতো জিনিস ক্রয় করে লাভ করতে শুরু করলে তোমার বিক্রয়জাত জিনিসের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে   

আশা করি এই ধাপ গুলি তোমার নতুন ব্যাবসাকে সফল করতে তোমাকে সাহায্য করবে

Related Posts

Leave a Comment