Home ব্যবসায়িক পরামর্শ খাদ্য প্যাকেজিং ব্যবসা
খাদ্য প্যাকেজিং ব্যবসা

খাদ্য প্যাকেজিং ব্যবসা

by Tandava Krishna

ভারতে কীভাবে সফল খাদ্য প্যাকেজিং ব্যবসা করা যায় তার পরিকল্পনা পদ্ধতি

খাদ্য আমাদের বেঁচে থাকার জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্রব্য। তাই যে কোনও পরিস্থিতিতেই মানুষকে খাবারের সঙ্গস্থান করতেই হয়। বর্তমানে আমদের কাছে খাবার খুবই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে তার কারণ অসংখ্য ছোট-বড় খাবারের দোকান বা হোম ডেলিভারি পরিষেবা আপনার বাড়ির কাছাকাছি তৈরী হয়ে উঠছে। অর্থাৎ খাদ্যদ্রব্য সংক্রান্ত যে কোনও ব্যবসাই বর্তমানে বহুল প্রচলিত হয়ে উঠেছে। বর্তমান দ্রুত জীবনযাপন পদ্ধতির সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাবার ফলে মানুষের কাছে সময়ের বড় অভাব দেখা দিয়েছে। এমনকি তাদের কাছে দুপুরের বা রাতের খাবারের রান্না পর্যন্ত করার সমায় নেই। আরে সেই কারনেই প্যাকেজ খাবারের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতে বাজারের চাহিদাকে নজরে রেখে আপনিও প্যাকেজ খাবারের ব্যবসা শুরু করতেই পারেন। 

বর্তমানে একাধিক ধরণের প্যাকেজ খাবার বাজারে উপলব্ধ। কিন্তু আপনাকে ভাবতে হবে আপনি কোন ধরনের প্যাকেজ খাবারের ব্যবসা শুরু করতে চান। তার জন্য আপনাকে বাজারের পরিস্থিতি ও চাহিদা খতিয়ে দেখতে হবে। আপনার এলাকায় যদি দুপুরের খাবার খাওয়ার ক্রেতার সংখ্যা বেশী থাকে তবে আপনি ভাত-ডাল সংক্রান্ত থালি ধরনের প্যাকেজ খাবারের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আবার যদি আপনার এলাকায় দুপুরের খাবারের থেকে স্ন্যাক্স বা ফাস্ট ফুডের চাহিদা বেশি থাকে তবে আপনি সেই দিকেও যেতে পারেন। সঠিকভাবে যাচাই করে বাজারের চাহিদা বুঝে তবেই ব্যবসা শুরু করা উচিত।

ভারতে প্যাকেজ খাবারে ব্যবসা শুরু করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

  • ব্যবসার পরিকল্পনা করাঃ

ভারতে প্যাকেজ খাবারের ব্যবসা শুরু করার প্রথম পদক্ষেপই হল একটা সম্পূর্ণ ব্যবসার পরিকল্পনা বা বিজনেস প্ল্যান তৈরী করা যার মধ্যে থাকবে ব্যবসার ব্যবস্থাপনা অর্থাৎ ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিয়াকলাপ সংক্রান্ত কৌশল। এই প্রাথমিক পরিকল্পনাই আপনাকে ভবিষ্যতে ব্যবসার উন্নতি এবং ব্যবসার বাজেত নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে। আর এই পরিকল্পনার সাথে আপনাকে লাভ-ক্ষতির বিশ্লেষণ, ও বাজারের গতিপ্রকৃতিও যুক্ত করতে হবে।

  • ব্যবসার পরিকাঠামো নির্বাচনঃ

ব্যবসার পরিকাঠামো নির্বাচন ব্যবসার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। এই ধরণের ব্যবসা একক মালিকানায় গঠন করাই শ্রেয়। কিন্তু আপনি যদি এই ব্যবসাকে বৃহৎ আকারে পরিকল্পনা করে থাকে, তবে আপনি তাকে লিমিটেড কোম্পানি বানাতে পারেন, তাতে আপনি শেয়ারের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ করতে পারেন। তাতে আপনার মূলধনের বৃদ্ধি হবে এবং আপনি আপনার ব্যবসাকে সার্বিক ভাবে গড়ে তুলতে পারবেন। এই পরিকাঠামোর ওপর নির্ভর করেই আপনার ব্যবসার নথিভুক্তকরণ নির্ধারিত হবে। কারণ নথিভুক্তকরণের পদ্ধতি ভিন্ন পরিকাঠামোর ব্যবসার জন্য ভিন্ন হয়ে থাকে। নথিভুক্তকরণ বা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী অন্যান্য লাইসেন্স এর কাজ এগোনো সুবিধাজনক হয়।

  • ব্যবসার অবস্থানঃ

যে কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে তার অবস্থান নির্ধারন করা ভীষণ জরুরী। কারণ সেই অবস্থান বা লোকেশনের ওপরেই নির্ভর করবে আপনার ব্যবসার প্রসার। প্যাকেজ খাবারের ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রাইম বা মুখ্য অবস্থান হওয়াটা খুব জরুরী। অর্থাৎ বাজারের ভিতর বা বড় রাস্তার ধারে আপনার দোকান হলে আপনি অনেক নতুন ক্রেতার সাথে ব্যবসা করতে পারবেন। কারণ বাজার হল অনেক লোকের সমাগম। কিন্তু আপনার ব্যবসার স্থান যদি কোনো পাড়ার ভিতরে হয়, সেক্ষেত্রে আপনাকের সেই পাড়ার মানুষজনদের উপরেই নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে অথবা প্রচারের অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। তাই যে কোনও ব্যবসার মত ফুড প্যাকেজিং এর ব্যবসাতেও স্নানটা খুবই গুতুত্বপূর্ণ। 

  • ব্যাঙ্কে কারেন্ট অ্যাকাউন্টঃ

আমারা যেমন আমাদের রোজগারের অর্থ জমানোর জন্য ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলি, ঠিক তেমনই নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে সেই নামের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রকারভেদ থাকলেও, প্রাথমিক ভাবে ব্যাঙ্কে দুই রকম অ্যাকাউন্ট হয়ে থাকে – সেভিংস বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং কারেন্ট বা বানিজ্যিক অ্যাকাউন্ট। যে কোনও ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কে কারেন্ট অ্যাকাউন্টই খোলার প্রয়োজন হয়। আপনার ননুন খাদ্য প্যাকেজিং-এর ব্যবসার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন ব্যবসার নামের একটি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। 

  • এফ এস এস এ আই রেজিস্ট্রেশনঃ

যখন আপনি খাদ্যদ্রব্য নিয়ে ব্যবসায় নামতে চলেছেন, তখন ২০০৬ এর ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড আইন অনুযায়ী আপনার ফুড লাইসেন্স থাকা খুব জরুরী। 

এফ এস এস এ আই-এর বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি

এফ এস এস এ আই রেজিস্ট্রেশন মূলত তিন ভাগে বিভক্ত – প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন, স্টেট লাইসেন্স এবং সেন্ট্রাল লাইসেন্সপ্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন করাতে হয় ক্ষুদ্র স্তরের ব্যবসা বা স্টার্টআপ-এর ক্ষেত্রে। প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন তাদের জন্যই প্রযোজ্য যাদের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকা বা তার নীচে। যে সব ব্যবসার বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকা থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে হয় তাদের জন্য স্টেট রেজিস্ট্রেশন এবং বার্ষিক আয় ২০ কোটি টাকার বেশী হলে সেক্ষেত্রে সেন্ট্রাল রেজিস্ট্রেশন প্রযোজ্য হয়। 

কীভাবে ব্যবসার বৃদ্ধি করবেন

অন্যান্য ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নীতি থাকলেও, যেহেতু আপনি ফুড প্যাকেজিং এর ব্যবসা শুরু করেছেন, আপনাকে দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে – ১) খাবারের স্বাদ যেন মনভোলানো হয় এবং ২) বাসী খাবার যেন কখনই সরবরাহ করা না হয়। এই দুইটি বিষয়ে যদি কঠোর থাকা যায়, তাহলেই আপনার ক্রেতাদের আপনার প্রতি বিশ্বাস তৈরী হবে এবং আপনার প্যাকেজ খাবার ছাড়া অন্য কোথাও তাঁরা কখনই খাবেননা। 

১) যেকোনো রেস্তোরা বা ফুড প্যাকেজিং বাজারে প্রতিষ্ঠিত হয় শুধুমাত্র তার স্বাদের গুনে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিমানেও। আপনার খাবারের নুন মিষ্টি যদি সঠিক পরিমাণে থাকে। এবং যে খাবারের যে স্বাদ, তা যদি সঠিকভাবে আসে, তবে আপনার প্যাকেজ খাবার আপনার ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত জমপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং তাঁরা আবার খাবার অর্ডার করবে। 

২) সবসময় টাটকা খাবার সরবরাহ করতে হবে। ক্রেতারা যাতে কখনও অভিযোগ করার সুযোগই না পায় যে আপনি বাসী বা খারাপ খাবার সরবরাহ করেন। আর এই ঘটনা যদি সত্যিই ঘটে তাহলে আপনি যতই নাম বা খ্যাতি অর্জন করে থাকুননা কেন এক মুহুর্তে তা ধুলিস্মাত হয়ে যাবে। 

৩) খাবারের পরিমাণও অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কোনও একটি খাবার অন্যান্য ফুড প্যাকেজিং কোম্পানি যে দামে বিক্রি করে সেই দামেই যদি আপনি পরিমাণে কিছুটা বেশী দিতে পারেন, তাহলেই আপনার ক্রেতার সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকবে।

৪) যে কোনো ব্যবসাতেই বাজারে প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। তাই আপনাকেও প্রতিযোগী হয়ে উঠতে হবে। গভীরভাবে বাজার পরিদর্শন করে তবেই আপনার প্যাকেজ খাদ্যের দাম নির্ধারণ করবেন। অবশ্যই লাভ রাখবেন। কিন্তু প্রাথমিক ক্ষেত্রে ক্রেতা বা কাস্টোমার ধরার জন্য প্রয়োজনে আপনাকে নুন্যতম লাভে প্যাকেজ বিক্রি করতে হবে। প্রথমেই যদি আপনি অতিরিক্ত লাভের আশা করেন তাহলে আপনি ভুল পথে হাঁটছেন। যে কোনও ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমে লগ্নির অর্থ উঠে আসে তারপর লাভের মুখ দেখা যায়। কিন্তু আপনি যদি প্রথমেই বেশী দামে খাবার বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করতে চান, তাহলে আপনার খুব বেশীদিন চলা মুশকিল।

উপরিউল্লিখিত বিষয়গুলির সঠিকভাবে পালন করা গেলে প্যাকেজ খাদ্যের ব্যবসা শুরু করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। তবে প্যাকেজ খাদ্যের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে প্যাকেজিং যেন সঠিকভাবে হয়। কোনও ক্রেতা যেন অভিযোগ করতে না পারে যে তাদের খাবারে প্যাকেজিং ভাল ছিল না। একটা তরকারীর সাথে অন্যটা মিশে গিয়েছিল। আপনি ভারতবর্ষে ব্যবসা করতে চলেছেন। এখানকার মানুষ কোনোকিছু ভাল হলে যেমন প্রসংশায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনই খারাপ কিছু হলে অপবাদ দিতে এতটুকু পিছপা হয়না। তাই এখানে ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে এই বিষত গুলি মাথায় রাখতেই হবে।

Related Posts

Leave a Comment