Home ব্যবসায়িক পরামর্শ ক্রীড়া স্টোর ব্যবসা
ক্রীড়া স্টোর ব্যবসা

ক্রীড়া স্টোর ব্যবসা

by Tandava Krishna

কীভাবে স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করবেন

শহর কিংবা গ্রাম তুমি এমন কোন জায়গা খুঁজে পাবে না যেখানে মানুষেরা খেলাধুলার সাথে একেবারেই সম্পৃক্ত নেই। ইন্ডোর বা আউটডোর সব জায়গায় সব বয়সের মানুষ অবসর সময়ে খেলতে পছন্দ করে। লুডু, দাবা, টেবিল টেনিস, ফুটবল, ক্রিকেট বা অন্য যেকোন খেলাই হোক না কেন। তুমি এই খেলা কে উদ্দেশ্য করে  খেলার পণ্যসামগ্রী নিয়ে ব্যবসা শুরু  করতে পারো। এটি এমন একটি ব্যবসা হবে যার চাহিদা সারা বছরই কমবেশি থাকে। আজকাল শহর গ্রামে বিভিন্ন জায়গায় ধরনের দোকান লক্ষ্য করা যায় এবং এই ব্যবসাটিতে কোন লস হয়ার ও সম্ভাবনা নেই তাই তুমিও চাইলে এমন একটি ব্যবসা শুরু করতে পারো।

ব্যবসার জন্য কেমন দোকানের জায়গা নির্বাচন করতে হবে?

এই ধরনের ব্যবসার জন্য দোকানের জায়গা নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্রতিযোগিতামূলক বাজার হয় তাহলে তোমাকে অবশ্যই জায়গা নির্বাচনে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। এক্ষেত্রে তোমার এলাকার বাজার অথবা লোকজনদের চোখে পড়ে এবং লোকজনের আনাগোনা আছে এমন জায়গায় নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে হবে। শহরে ব্যবসাটি করতে হলে তোমাকে জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব একটু খোঁজ খবর নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। কেননা এই জায়গার উপরই নির্ভর করবে তোমার ব্যবসার ভবিষ্যৎ। তাছাড়া স্কুল, কলেজ, বিশবিদ্যালয়ের পাশে বা কোন স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠের পাশেও এমন দোকানের জন্য জায়গা নির্বাচন করা যায়। 

ব্যবসাটি তুমি কিভাবে শুরু করবে?

যে কোন ব্যবসা করতেই ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। তাছাড়া ব্যবসা বড় হলে জিএসটিও করিয়ে নিতে হয়। তাই ব্যবসার শুরুতেই এগুল করে নিতে পারলে ভালো হবে। তুমি যে অঞ্চলে ব্যবসাটি শুরু করবে সে অঞ্চল থেকে তোমাকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। তুমি জেলা শহরে ব্যবসাটি করলে সিটি কর্পোরেশন থেকে এবং এলাকায় করলে তোমার এলাকার পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স করে নিতে পারো। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া তুমি এই ব্যবসাটি শুরু করতে অসুবিধায় পড়তে হতে পারে তাউ এগুল আগেভাগে করে ঝামেলা মুক্ত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।  

তুমি কোন ধরনের ক্রিয়া সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা করবে তা সম্পূর্ণ তোমার উপর নির্ভর করবে।তবে বর্তমানে ক্রিয়া  সামগ্রীর দোকানে ব্যবসায়ীইকরা সব ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী রাখার চেষ্টা করে। তাই তুমি চাইলে তোমার ব্যবসায় সব ধরনের স্পোর্টস সামগ্রীও রাখতে পারো। আবার তুমি যদি স্পোর্টস সামগ্রী যন্ত্রাংশ নিয়েও ব্যবসাটি করতে চাও তাও করতে পারো। এছাড়াও পণ্য সামগ্রী কেনার আগে তোমার এলাকায় কেমন খেলায় মানুষের আগ্রহ আছে সেদিকে নজর রেখে খেলার জিনিসগুলো কিনতে পারো। 

দোকানের আয়তন কেমন হতে হবে?

দোকানের আয়তন কেমন হবে তা তোমার পুঁজি বিনিয়োগের উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ তুমি যত রুপি বিনিয়োগ করতে পারবে ব্যবসাটি ঠিক ততো বড় হবে। তাই সে অনুযায়ী তোমার দোকানের আয়তন নির্ধারণ করতে হবে। তুমি যদি পাইকারিভাবে বড় দোকান করতে চাও অথবা বড় দোকান দিতে চাও তাহলে তোমার বড় আয়তনের জায়গা নির্ধারণ করতে হবে আর যদি তোমার রূপির পরিমাণ কম হয় তাহলে সে অনুযায়ী তোমাকে দোকান কেমন আয়তনের হবে তা নির্ধারণ করতে হবে।

ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা ডেকোরেশন কেমন হতে হবে?

যেকোন দোকানের ক্ষেত্রেই দোকানের সাজ সজ্জা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দোকানের সুন্দর ডেকোরেশন ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ক্রেতারা পণ্য কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এজন্য দোকানটিকে প্রথমে ভালোভাবে ডেকোরেশন করে নিবে এবং পণ্যের রাখার বা খেলার সামগ্রী সামনের দিকে ডিসপ্লে প্রদর্শন করার জন্য তাক শোকেস হ্যাঙ্গার স্থাপন করা যেতে পারে। স্টোর করার জন্য দোকানের পেছন দিকে আলাদা একটা সেকশন করা যেতে পারে। জিম করার পণ্য গুলো সামনের দিকে, এক দুটা ফুটবল ডেমো হিসেবে সামনের দিকে ঝুলেয়ে রাখারো ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়াও একরকম পণ্য গুলো নিয়ে আলাদা আলাদা গ্যালারী করলে খুব সুন্দর দেখাবে। সব ইছু গুছিয়ে নেওয়া হয়ে গেলে তোমার বসার স্থানটিকে ভালো করে নির্ণয় করে নিতে হবে। দোকান নিজেই যদি চালাতে চাও তবে তোমার বসার জায়গাটি সামনের দিকে হলে ভালো হবে। 

শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা দরকার কিনা?

আসলে ছোট খাটো ব্যবসা পরিচালনার জন্য তেমন কনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। শুধু ক্রেতার কাছে কেমন পণ্যের চাহিদা আছে আর মার্কেটে নতুন করে কোন পণ্য ভালো চলছে এসব বিষয়ে একটু ভালো ধারণা থাকলেই হয়। তাছাড়া, তোমার ব্যবসায়ের লাভলোকসানের হিসাব রাখার মতো দক্ষতা থাকারও প্রয়োজন আছে। সকল  ব্যবসায়ের মূল বিষয় হলো তার যোগ্যতা সততা। যোগ্যতার সাথে সাথে ব্যবসায় দরকার ভালো ব্যবহার আচারআচরন যা ক্রেতাদের সাথে বিক্রেতাদের ভালো সম্পর্কের কারন হবে। যত বেশী ক্রেতার সাথে তুমি ভালো সম্পর্ক করতে পারবে তোমার ব্যবসা ততো বেশী বাড়বে। 

কর্মী সংগ্রহের দরকার আছে কিনা?

তোমার দোকানে কর্মী সংগ্রহের দরকার আছে কিনা তা তোমার দোকানের পরিধির উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ তোমার দোকানের পরিধি যদি বড় হয় তাহলে তুমি প্রয়োজন অনুসারে অথবা জন কর্মচারী রাখতে পারো। আর যদি তোমার দোকানের পরিধি ছোট হয় তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় তুমি নিজেই ব্যবসাটি শুরু করতে পারো। এতে যেমন টাকা সেভ হবে তেমনি তোমার বাস্তব অভিজ্ঞতাও বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে আজকাল হোম ডেলিভারি দেওয়ার প্রবনতা সৃষ্টি হয়েছে তাই কমিশনের ভিত্তিতে ডেলিভারি ম্যান রাখা যেতে পারে। তুমি যদি পাইকেরী বিক্রেতা হতে চাও তবে মার্কেটিং এবং তোয়ার পাইকেরী দোকানে আবশ্যই করমীর দরকার আছে। 

 কি ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী রাখা যায়?

তোমার এলাকায় যে খেলাটি বেশি জনপ্রিয় তা বিবেচনা করে ক্রীড়া সামগ্রী রাখতে পারো। এছাড়া গ্রাহকের চাহিদা বুঝে তোমাকে ক্রিয়ার সামগ্রী আনতে হবে। অর্থাৎ মৌসুমী খেলার সময়ে বা যখন যে খেলা চলে সে খেলার সামগ্রী আগে থেকেই দোকানে রাখতে হবে এবং নতুন নতুন ক্রিয়া সামগ্রীর আপডেট রেখে সেগুলোও তোমার দোকানে রাখতে পারো। 

খেলার সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য সামগ্রী রাখতে হবে। যেমন জার্সি বোর্ড মোজা সহ অন্যান্য সামগ্রী। প্রয়োজনবোধে এলাকার টিমের জন্য নিজের নামে জার্সি বানিয়ে দেওয়ার অর্ডার নিতে পারো। এতে তোমার দোকানের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। স্পোর্টস সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ফুটবল, টেনিস বল ,ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট বল ,ক্রিকেট ব্যাট, স্কেটিং, জার্সি,জার্সির টাউজার, নেট, এংলেট ,নী ক্যাপ, টেপ, বিভিন্ন স্পোর্টস যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যেও অনেক ধরনের আইটেম রয়েছে। এছাড়াও জিমের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও দোকানে রাখা যায়। 

কোথায় কিনতে পাবে? 

খেলার সামগ্রী কেনার জন্য তোমার আশেপাশে একই ধরনের দোকানীদের সাথে যোগাযোগ করে একটা পরামর্শ  নিয়ে নিতে পারো। তোমার নিকটস্থ খেলার সামগ্রী বিক্রির পাইকেরী দোকান থেকেও তুমি বিক্রির জন্য পণ্য কিনতে পারো। এছাড়াও দিল্লি, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ এবং কোলকাতায়ও কিছু পাইকেরী দোকান আছে যেখান থেকে তুমি খেলার সামগ্রী অত্যন্ত কম দামে  কিনতে পাবে।  আজকাল আমাজান, ইন্ডিয়ামারট, ট্রেডইন্ডিয়া এসব বড় বড় অনলাইন মারকেটপ্লেসেও খুব সহজেই পাইকেরী দরে খেলার সামগ্রী কিনতে পাবে।  

কেমন পুঁজি বিনিয়োগ করা লাগতে পারে? 

তুমি কোন ধরনের স্পোর্টস সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা করবে তার উপর ভিত্তি করে তোমাকে পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে। ক্রীয়া সামগ্রী ব্যবসা দোকানের জায়গা ডেকোরেশন সহ প্রাথমিকভাবে করার জন্য তোমাকে থেকে লক্ষ রুপি বিনিয়োগ করতে হতে পারে। বড় করে ব্যবসাটি শুরু করতে চাইলে তোমাকে প্রাথমিকভাবে আরও ৫ লক্ষ রুপি আলাদা করে বিনিয়োগ করতে হতে পারে। 

কেমন আয় হয়? 

খেলার সামরগ্রী নিয়ে ব্যবসা করাটা খুব লাভজনক। আসলে লাভটা একেক পণ্যে একেক রকম হয়। সবকিছু হিসেবে ধরে যে কোন ক্রিয়া সামগ্রী বিক্রি করে  তুমি ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করতে পারো। 

আজকাল আমাদের দেশের যে কোন জায়গাতেই খেলাধুলা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে একদম গ্রাম পর্যন্ত এর বিস্তার ঘটবে। তাই এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তুমিও একজন খেলাসামগ্রী বিক্রেতা হয়ে উঠতে পারো। 

Related Posts

Leave a Comment