Home ব্যবসায়িক পরামর্শ কিরানার দোকান
কিরানার-দোকান

কিরানার দোকান

by Tandava Krishna

সেরা পাঁচটি বিসনেস আইডিয়া যেগুলো তোমার গ্রোসারি শপের (কিরানা শপ) প্রফিট বাড়াতে সাহায্য করবে 

সফলতা লাভ করার জন্যে সব ক্ষেত্রেই কিছু পদ্ধতি আমাদের অবলম্বন করতে হয়। সেটা নিজের ব্যাবসাই হোক আর চাকরিই হোক বা নিজের জীবন। এই গ্রোসারি শপ (কিরানা শপ) এমন একটা ব্যাবসায়িক ক্ষেত্র যেখানে সবাই কে যেতেই হয়। প্যাকেটজাত পদার্থ থেকে যে কোনো খাবার জিনিস খুঁজতে আমরা গ্রোসারি শপেই ভিড় জমাই।এবার যেহেতু সব ক্ষেত্রেই কম্পেটিশন ভীষণ বেশি তাই একজন ব্যাবসায়ীর পক্ষে দামের ব্যাপারে ভীষণ কেয়ারফুল হতেই হয়।  অনেকসময়ই দেখা যায় পাশাপাশি দুটো একই দোকান থাকলেও একটা দোকান সবসময় ভিড় আরেকটা দোকানে তুলনামূলক ভাবেই কিছুই হচ্ছে না। আমরা আজ এই বিষয় গুলো নিয়েই আলোচনা করবো যেগুলো থেকে তুমি তোমার কিরানা ব্যবসা কে আবার নতুন করে শুরু করতে পারো। 

আর এই কিরানা শপ এমন একটা বিসনেস যেখানে লাভের পরিমান খুব কম থাকে সব জিনিসগুলোর ক্ষেত্রেই। ব্যাবসায়ীরা তাদের ডিস্ট্রিবিউটরদের  থেকেও  খুব বেশি লাভ পান না। কিন্তু সেই অবস্থা থেকে নিজেকে কিভাবে সেরা  প্রমান করবে, বিক্রির পরিমান কিভাবে বাড়াবে সেই সব নিয়েই এই আলোচনা। যেহুতু একটা জায়গার মধ্যে কিরণ শপ সবসময়ই কিছু বেশি থাকে তাই বাকি দোকান ছেড়ে তোমার দোকানে সব ক্রেতা কেনো আসবে সেটা তোমাকেই ভাবতে হবে। তোমাকেই তোমার দোকানে এমন কিছু  চেঞ্জ করতে হবে যাতে সেটা চোখে পরে।সব সময় শুধু কঠোর পরিশ্রম নয় তার সাথে কিছু কৌশলও আমাদের সাহায্য করে নতুন করে উঠে দাঁড়াতে। তো তুমি জানতে চাইছো কি কি সেসব? এখানে সব ব্যাপারটাই তোমাকে বোঝাবো তবে তোমাকে ধৈর্য ধরে ব্যাপারটা বুঝতে হবে এবং সেটা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।  

প্রথমত 

তোমার কিরানা শপের ডেকোরেশন। বড়ো হোক বা ছোট, কিরানা শপের ক্ষেত্রে ইমপালস সেলস বলে একটা ব্যাপার খুব কাজ করে।  অর্থাৎ তেমন কিছু ভেবে বা স্থির করে ক্রেতা দোকানে আসেনি। সে হয়তো দোকানে একটা জিনিস কিনতে এসে চারিদিকে জিনিস দেখে আরো কিছুই জিনিস কেনার ইচ্ছা করেছে। তোমাকে তার মানসিক ব্যাপারটা বুঝে তার কাছ থেকে সেগুলো বের করতে হবে।এবার তোমার দোকান যদি খুব সুন্দর একটা প্রসেসে সাজানো থাকে সে একটা জিনিসের পরিবর্তে দশটা জিনিস ও কিনতে পারে। অর্থাৎ দোকান ডেকোরেশন , যেটার জন্যে তোমাকে যথেষ্ট টাইম দিতে হবে। কাস্টমার যেন সব জিনিস চোখের সামনে দেখতে পায় , দোকানে যেন আলোর পরিমান যথেষ্ট থাকে। চকলেট, লজেন্স, বিস্কুট, চানাচুর জাতীয় মুখরোচক জিনিস যেন সব সময় কিরানা শপে সামনের দিকে থাকে, দোকানে বড়ো বা ছোট কেউ এলে সে যেন সেটা সহজে দেখতে পায় সেই ব্যাপারটা তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে  দোকানের দুই সাইডে জায়গা থাকলে সেখানে আলমারির সাহায্যে রোজকার প্রয়োজন এর কিন্তু একটু দামি প্রোডাক্ট গুলো সাজাতে পারলে সেটাও ক্রেতাদের চোখে পড়বে তারা সেগুলো দেখে প্ল্যান না থাকলেও কিনতে পারবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা গ্রোসারি শপের একটা উল্লেখযোগ্য দিক, একজন কাস্টমার প্রথম দিন দোকানে ঢুকেই যদি ভাবে দোকান তা একটুও গোছানো নয়, জিনিসপত্র গুলো ঠিক ভাবে রাখেনা, এগুলো দোকানের লাভ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব ফেলে।   

দ্বিতীয়তঃ 

তোমার দোকানের নাম  প্রচুর মুদিখানার দোকান তাদের দোকানের কোনো নাম ঠিক করে না  ওইএর দোকান‘, ‘অমুকের বাবার দোকান‘, ওইপাড়ার মোড়ের দোকানএগুলো কখনো একটা দোকান কে দাঁড় করাতে সাহায্য করে না প্রথমে দেখনদারী, এটা আমরা সকলেই জানি  তাই একটা পাড়া ছাঁড়িয়ে একটা পুরো শহর এর মধ্যে দোকান এর নাম ছড়ানোর জন্যে দোকানের সুন্দর এবং আকর্ষণীয় নাম বাঞ্চনীয় আমরা যে কোনো কোম্পানি কে তাদের নামেই চিনি একটু একটু করেই একটা দোকান ব্র্যান্ডে পরিণত হয়  একজন ব্যাক্তি যে তোমার দোকানে প্রথম এসছে সে দোকানের নাম খেয়াল করলো তার পরিচিত কজন কে বলবে ওই তো ওই দোকানে গেলাম তুমিও যেও এটা এক ধরণের মার্কেটিং পলিসি যেটা তোমাকেও আয়ত্ত করতে হবে  তাহলে শুরু থেকেই সেই চেষ্টা করাই ভালোনাম থেকেই দাম শুরু এইটা ভেবেই এগিয়ে যাও তোমারও ভালো লাগবে

তৃতীয়ত 

তোমার ইমপ্রেশন অর্থাৎ প্রভাব তোমার পাড়াতে তোমার পরিচিতি বাড়াতে হবে  সৎ ব্যবহারের দ্বারা , সৎ উদ্দেশ্যের দ্বারা  এর জন্যে পাড়ার কোনো উৎসব অনুষ্ঠানে কিছু শেয়ার করলে , বা সেখানে কোনো এডভারটিস এর ব্যবস্থা করলে, সেই অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কিছু  মানুষ তোমার কাজে খুশি হলো, তোমার কিরানা শপের কথা আরো কিছু মানুষ জানলো, দোকানে এমনি ভিড় বাড়বে তারাও দেখবে তুমি যখন তাদের সাথে আছো তারাও তোমাকে সাথ দেবে  বা তুমি কোনো স্কুলে গিয়ে সেখানে টিচার দের কথা বলে সব বাচ্চাদের একটা করে চকলেট দিলে বিনামূল্যে চকলেট পেলে তারা তো খুশি হবেই তার সাথে তুমি আরো ডেলিভারী করার অপসন পেতে পারো তাদের গার্জেন রাও তোমার কিরানা শপে ভিড় জমাতে পারে কিন্তু প্রথমেই এর জন্যে মুনাফার কথা ভাবলে চলবে না  

চতুর্থতঃ 

কিছু আকর্ষণীয় অফার এর ব্যবস্থা করা। তোমার দোকানে কুপনের ব্যবস্থা করতে পারো অর্থাৎ যার থেকে একটা গিফট পাওয়া যেতে পারে সব বয়সের মানুষই উপহার পেতে খুব ভালোবাসেকোনো জিনিস কেনার সাথে সাথে যদি এক্সট্রা কোনো গিফট পাওয়া যায় কে না খুশি হয় রেগুলার বেসিসে না করতে পারলেও মাঝে মাঝে এসব স্মার্ট ট্রিক্স অরেঞ্জমেন্ট করলে তোমার লাভ এর পরিমান কমতে পারে কিন্তু কাস্টমারদের ভিড় লেগেই থাকবে নির্দিষ্ট টাকার জিনিস কিনলে কিছু পার্সেন্টের ডিসকাউন্ট থাকবে এরকম অফারও কাস্টমারদের কাছে বেশ লোভনীয় ধরো ১০০০ টাকার কেউ কিছু কিনলো তার পরিবর্তে % বা % ডিসকাউন্ট দিলে সেও ভাবলো সব জিনিস গুলো একসাথে কিনি তাহলে ডিসকাউন্ট পাবো এভাবে তোমার দোকানের বিক্রির পরিনাম বাড়াতে পারো

পঞ্চমত 

স্যাম্পল কিছু প্রোডাক্ট ফ্রীতে শেয়ার করা বা একসাথে জিনিস কেনার অফার দেওয়াব্যাপারটা হলো ধরো  সকালের দিকে যেসব খাবার জিনিস মানুষের বেশি লাগে, সেগুলোকে কম্প্যাক্ট করে নির্দিষ্ট একটা দামে বিক্রি করা এর ফলে হয়ত দুটো জিনিস তার লাগবে কিন্তু অফার টার জন্যে যে একত্রিত জিনিসটাই কিনতে রাজি হবে তুমিও ডিস্ট্রিবিউটর থেকে বেশি দাম পাবে  অনেক কোম্পানি যখন কোনো প্রোডাক্ট লঞ্চ করে তারা কিছু স্যাম্পল পাঠায়যারা নতুন আসবে বা রেগুলার কাস্টমার সবাই কেই কিছু কিছু স্যাম্পল ফ্রীতে দিতে থাকো এরফলে সে একটু খুশি হবে এবং পরের বার আবার আসবে  তোমার দোকানের চারিদিকে কে কোন দামে জিনিস বিক্রি করছে সেগুলো তুমি লক্ষ্য রাখো মাঝে মাঝে তোমার দোকানে লোক টানার জন্যে কিছু প্রোডাক্ট একটু কম দামে বিক্রি করো  সে হয়তো অল্প জিনিস কেনার জন্যে দোকানে এসে বেশি জিনিস কিনতেও পারে

উপসংহার 

শেষে আসি তোমার ব্যবহার, আচার আচরণ, দোকানের স্টকের দিকে কোনো কাস্টমার চারটে জিনিস কিনতে এলো সে দুটো জিনিস পেলো তো জিনিস পেলো না  সে ভাববে কিছুই তো পাওয়া যায় না দোকানে কি যাবো তাই সঠিক প্ল্যান করে সমস্ত রকমের জিনিসই তোমাকে কালেক্টিক করে রাখতে হবে তোমার কন্টাক্ট নম্বর দেয়া একটা কার্ড এর ব্যবস্থা করতে পারো অনেক মানুষই আছেন যারা বাইরে বেরিয়ে জিনিস কিনে সেটা বয়ে  নিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ থাকে না তোমার দোকানে এমন একজন কে রাখতে হবে যে বাড়ি গিয়ে জিনিসগুলো ডেলিভারি করে দিয়ে আসবে তার জন্যে তুমি কিছু চার্জ নেবে সেও পরের বার তোমার দোকানে আসবে সেই সুবিধা নিতেআর শেষে বলি সবার সাথে তোমার ব্যবহার সবসময় নম্র ভদ্র রাখতে হবেসবাই কে শ্রদ্ধা করতে হবে।   যে কম জিনিস নেবে আর যে বেশি জিনিস নেবে দুজনই যেন এক রকম ব্যবহার পায় সেটা তোমাকে মাথায় রাখতে হবে আবার তার সাথে কাজের স্পিড ঠিক রাখতে হবে।  অবশ্যই তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌঁছাবে। 

Related Posts

Leave a Comment