Home ব্যবসায়িক পরামর্শ কম্পিউটার ব্যবসা
কম্পিউটার ব্যবসা

কম্পিউটার ব্যবসা

by Tandava Krishna

কম্পিউটার ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন?

আপনি যদি কম্পিউটার পছন্দ করেন তবে একটি কম্পিউটার ব্যবসা শুরু করা আপনার জন্য খুবই ভালো পদক্ষেপ হবে। আপনি একবার ভাবুন আপনি প্রতিদিন কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারবেন , গ্রাহকদের সাথে কম্পিউটার সম্পর্কিত কথা বলতে পারবেন। আপনার কাজের সারাদিন  কম্পিউটার বা এই সম্পর্কিত কাজেই ব্যয় হবে। তবে কম্পিউটার দোকান খোলার আগে, আপনি কোন পরিষেবাগুলি সরবরাহ করবেন এবং তার জন্য কী প্রয়োজন তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করুন। আপনি যদি কম্পিউটার মেরামতের পরিষেবা সরবরাহ করতে চান তাহলে আপনার মেরামতের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। অন্যদিকে আপনি যদি মাইক্রোসফ্টের সারফেস রিসেলার হতে চান সেই জন্য মাইক্রোসফ্টের রিসেলার প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পূর্ণ করা দরকার। 

নিম্নলিখিত কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে আপনি কিভাবে আপনার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে নিজের কম্পিউটার ব্যবসা শুরু করবেন তা দেখা যাক।

প্রথম ধাপঃব্যবসার পরিকল্পনা

একটি সফল ব্যবসার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা। ব্যবসা কে বড় করে তোলার পিছনে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

কি ধরণের কম্পিউটার ব্যবসা করতে চান?

কয়েক দশক আগে, কম্পিউটার ব্যবসা সেই পুরানো, বিশালাকার আইবিএম মেইনফ্রেম নিয়েই চলত। পার্সনাল কম্পিউটারের জন্মের পর থেকেই আইটি জগতে বিস্ফোরণ ঘটে। কম্পিউটার ব্যবসা শুরু করার আগে, আপনি কোন পরিষেবা বা পণ্য সরবরাহ করতে চান তা ঠিক করুন। যেমন

  • কম্পিউটার মেরামত?
  • নতুনদের জন্য কম্পিউটার ক্লাস?
  •  নাকি মাইক্রোসফ্ট বা অ্যাপল থেকে কম্পিউটার কিনে পুনরায় বিক্রয় করা? 

আপনি যদি কম্পিউটারে কাজ করতে পছন্দ করেন সেক্ষেত্রে কম্পিউটার মেরামতির ব্যবসা আপনার জন্য উপযুক্ত। আপনি আপনার দক্ষতার মূল্যায়ন করুন এবং পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকলে আরও প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী হন। আপনি বন্ধুদের এবং পরিবারের সদস্যদের কম্পিউটারে কাজ করতে পারেন বা কোনও বিদ্যমান মেরামত পরিষেবার সাথে যন্ত্রাংশবিদ হিসাবে যুক্ত হতে পারেন। আপনি যত বেশি দক্ষতা অর্জন করবেন তত ভাল। এমনকি অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের  পরে  আপনি কোনও একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র যেমন নেটওয়ার্ক সংযোগ সমস্যা বা হার্ডওয়্যার ইত্যাদিকে নিজের কাজের পরিসরে রাখতে পারেন। 

একজন রিসেলার হয়ে ওঠার জন্য আপনার প্রয়োজন মাইক্রোসফ্টের মতো একটি সংস্থার সাথে কাজ করা এবং সেই সংস্থার রিসেলারদের আবশ্যিক শর্তগুলিকে মেনে চলা। যেমন আপনি যদি মাইক্রোসফটের সারফেস রিসেলার হতে চান  তাহলে আপনাকে সারফেস একাডেমিতে যোগ দিতে হবে। প্রশিক্ষণের প্রাথমিক পর্বে ব্যবসায় সারফেসের ব্যবহার, সারফেসের পরিবার এবং গ্রাহক পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রশিক্ষণটি পাস করার জন্য “বিক্রেতা মূল্যায়ন” পরীক্ষায় আপনাকে ৮০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

আপনার বাজার সম্পর্কে ওয়াকিবহল হনঃ

আপনার কম্পিউটারের ব্যবসাটি শুরু করতে হলে আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকরা আপনার কাছ থেকে কী চান এবং আপনি তা সরবরাহ করতে পারেন কিনা তা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে। আপনি যদি ব্যবসায়িক গ্রাহকদের সাথে কাজ করতে চান তবে আপনাকে নিয়মিত ব্যবসায়ের সময় উপলব্ধ থাকতে হবে। অন্যদিকে আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকরা যদি  আবাসিক গ্রাহক হন তাহলে আপনাকে রাত এবং সপ্তাহান্তে উপলভ্য থাকতে হবে।

আপনি নিজের বাড়ির থেকে কাজ করতে চান না দোকান খুলতে চান তা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনার কম্পিউটার ব্যবসায়ের অংশ এবং সরঞ্জামগুলি সঞ্চয় করার জন্য এবং আপনি যখন সেগুলিতে কাজ করছেন তখন কম্পিউটার রাখার জন্য স্থান প্রয়োজন। একটি ছোট্ট দোকান আপনাকে আরও পেশাদার এবং বিশ্বাসযোগ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।

প্রতিযোগীদের বিশ্লেষণ করাও আপনার ব্যবসার একটি অংশ। তারা কি কি পরিষেবা সরবরাহ করে, কোন কম্পিউটার সরঞ্জামগুলি তারা পুনরায় বিক্রয় করে এবং মেরামত করার জন্য তাদের প্রতি ঘন্টার হারগুলি কী তা দেখুন। আপনার উচ্চতর দক্ষতার ভিত্তিতে আপনি তাদের পরাজিত করতে পারবেন না তাদের দামগুলি হ্রাস করার সামর্থ্য রাখেন  তা নির্ধারণ করুন।

আর্থিক পরিকল্পনাঃ

একটি ছোট ব্যবসা হিসাবে, আপনাকে ব্যবসা শুরু করার জন্য সমস্ত সাধারণ ব্যয়ের হিসেব করতে হবে। আপনি যদি মেরামত পরিষেবা সরবরাহ করতে চান তবে আপনাকে কাজ করার জন্য একটি সাধারন সরঞ্জামগুচ্ছ, থার্মাল পেস্ট এবং কেবল টেস্টার সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে হবে । এছাড়াও আপনার রাউটার, মাউস , ডিভিডি-বার্নার এবং বিদ্যুত সরবরাহর প্রয়োজন হতে পারে। আপনার বাজেট কত এবং আপনি কি কি জিনিষ কত পরিমাণে কিনতে পারবেন সেই ব্যাপারে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

দ্বিতীয় ধাপঃআইনি স্বত্তা গঠন করা

আইনি স্বত্তা গঠন করার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসাকে আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। কেউ যদি আপনার ব্যবসার বিরুদ্ধে কোন মামলা করে আইনি স্বত্তা গঠন করা থাকলে আপনি ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন না।

তৃতীয় ধাপঃকরের নথিভুক্তকরন

পরবর্তী ধাপ হল আপনার ব্যবসাকে করের জন্য নথিভুক্তকরন করা।

চতুর্থ ধাপঃব্যাংক এ কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  খোলা এবং ক্রেডিট কার্ড এর জন্য আবেদন করা

ব্যবসার সমস্ত লেনদেন করার জন্য কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকা খুবই প্রয়োজনীয়। এর ফলে আপনার ব্যাক্তিগত টাকা এবং সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে। এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকলে ব্যবসার হিসেবনিকেশ করতে আর খাজনা দিতে অনেক সুবিধা হবে।

ব্যবসার জন্য একটা আলাদা ক্রেডিট কার্ড থাকলে সমস্ত খরচ এক জায়গায় থাকে যার ফলে পরবর্তী তে ব্যবসার জন্য টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে সুবিধা হয়।এবং ব্যবসার জন্য ক্রেডিট কার্ড থাকলে আপনার ব্যাক্তিগত খরচও আলাদা করা সম্ভব হয়।

পঞ্চম ধাপঃব্যবসার হিসেবরক্ষণ

ব্যবসার সব খরচ এবং আয়ের উৎস সঠিকভাবে লিখে রাখলে তা ব্যবসাকে বুঝতে অনেক সাহায্য করে।এবং পরবর্তীতে করের হিসেব করতেও অনেক সুবিধা হয়।

ষষ্ঠ ধাপঃপ্রয়োজনীয় অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করা

আপনার ব্যবসায় যাতে কোন অসুবিধার সৃষ্টি না হয় বা আপনার ব্যবসা যাতে অবৈধ হিসেবে বিচার্য না হয় সেই কারণে প্রয়োজনীয় সকল অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করুন।

সপ্তম ধাপঃব্যবসার  বীমাকরন 

আপনার ব্যবসাকে সঠিক ভাবে চালু রাখার জন্য যেভাবে অনুমতি এবং লাইসেন্স দরকার সেইভাবেই বীমার ও প্রয়োজন। ব্যবসার বীমা থাকলে অনেক ক্ষতির থেকে ব্যবসাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। 

অষ্টম ধাপঃ নিজের ব্র্যান্ডকে সঠিকভাবে বর্ণনা করা

আপনার দোকান কেমন এবং আপনার ব্যবসাকে সবাই কীভাবে গ্রহন করছে তাই আপনার ব্র্যান্ডকে নির্ধারণ করবে এবং প্রতিযোগীদের থেকে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

নবম ধাপঃওয়েবে উপস্থিতি স্থাপন করা

ব্যবসার প্রচারের জন্য সবথেকে ভালো উপায় হল কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা। এমন অনেক সাইট আছে যেখান থেকে আপনি খুব সহজে নিজের ব্যবসার ওয়েবসাইট খুলতে পারবেন। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমও প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। আপনি আপনার ব্যবসার একটা ফেসবুক পেজ খুলে  সন্তুষ্ট ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। সেই পেজ-এ তাদের আপনার দোকান সম্পর্কে ইতিবাচক পর্যালোচনা করতে বলুন যার মাধ্যমে আপনি নতুন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারবেন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যখন কেউ আপনার ব্যবসার নাম দিয়ে বা “কম্পিউটার দোকান + আপনার এলাকার নাম” দিয়ে গুগল করছে তখন আপনার দোকানের  নাম সার্চ ইঞ্জিন-এ দেখাচ্ছে কিনা।

আপনার ব্যবসা বাড়ার সাথে সাথে কম্পিউটার সম্পর্কিত আরও পণ্য আপনার দোকানে যুক্ত করুন। গ্রাহকরা আপনাকে কোন পণ্য সরবরাহ করতে দেখতে চান তা জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সরবরাহকারী অনুরোধ পণ্যগুলি সরবরাহ করে কিনা তা সন্ধান করুন। এছাড়াও, সমস্ত কম্পিউটার পণ্যগুলির জন্য ওয়্যারেন্টি সরবরাহ করুন। আপনি আপনার সরবরাহকারী থেকে ওয়্যারেন্টি সম্পর্কে তথ্য পেতে সক্ষম হবেন। এইভাবেই আপনার ব্যবসা সাফল্যের দিকে অগ্রসর হতে থাকবে এবং একদিন উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাবে।

 

Related Posts

Leave a Comment