Home ব্যবসায়িক পরামর্শ আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকান
আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকান

আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকান

by Tandava Krishna

আয়ুর্বেদ মেডিসিন স্টোর কীভাবে খুলবেন

আয়ুর্বেদিক চিকিত্‍সা ৫০০০ বছরের পুরাতন। পবিত্র বেদ এর একটি ভাগঅথর্ববেদ এর যে অংশে চিকিৎসা বিদ্যা বর্ণিত আছে তা মূলত আয়ুর্বেদ। প্রায় ৫০০০ হাজার বছর ধরে চলে আসা এই চিকিত্‍সা বর্তমানেহারবাল চিকিত্‍সানামে দেশেবিদেশে ব্যপক বিস্তার লাভ করেছে। 

আমাদের ভারত সরকার আয়ুর্বেদিক চিকিত্‍সার বিস্তারের জন্য ভারতে আয়ুর্বেদিক চিকিত্‍সা সংক্রান্ত মন্ত্রানালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। শহরের বড় বড় হাস্পাতাল থেকে শুরু করে গ্রামের পঞ্চায়েত পর্যন্ত সরকার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ঔষধ সরবরাহ করে থাকে।সুতরাং তুমি বুঝতেই পারছো এটি আমাদের দেশে কতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাই তুমি চাইলে আয়ুর্বেদিক চিকিত্‍সার জন্য ঔষধের দোকান করে সহজেই নিজেকে উদ্যক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারো।

কেনো আয়ুর্বেদিক স্টোর করবে?

আধুনিক এলোপ্যাথিতে অনেক ঔষধেরই পার্শ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ঔষধ গুলো রোগ সারানোর পাশাপাশি মানব শরীরকে দুবর্ল করে ফেলে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মানব শরিরে ব্যপক ক্ষতি সাধন করে।  এরপরেও দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য মানুষ আধুনিক ঔষধপত্রাদি ব্যবহার করে চলেছে। অন্যদিকেডাক্তার এবং ঔষধ ব্যবসায়ীগণ এসকল পার্শ প্রতিক্রিয়া পরোয়া না করে সুনামের জন্য অনবরত যথেচ্ছহারে রোগীদেরকে এসকল ঔষধ দিয়ে যাচ্ছেন। তাই এখন ঔষধের বিকল্প পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি সারা বিশ্বে এখন আয়ুর্বেদিক চিকিত্‍সা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। 

আয়ুর্বেদিক স্টোর করতে কি অনুমোদন প্রয়োজন হয়?

আয়ুর্বেদিক মেডিকেল স্টোর করতে এলোপ্যাথিক স্টোরির মতো এতো বেশি কাগজপত্রাদি বা সরকারী অনুমোদনের দরকার পড়ে না। তুমি তোমার আধার কার্ড দিয়েই একটি আয়ুর্বেদিক মেডিকেল স্টোর চালু করতে পারো। এছাড়াও বাজারে ব্যবসা করার জন্য তোমার ট্রেড লাইসেন্স দরকার পড়বে। তুমি যদি কোন কোম্পানির ডিলারশিপ ব্যবসা শুরু করো এবং বছরে তোমার ২০ লাখ রুপির বেশি আয় থাকে তবে তোমাকে জিএসটি করে নিতে হবে। এসব ছাড়া আয়ুর্বেদিক মেডিকেল স্টোর করতে কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। 

শিক্ষাগত যোগ্যতার দরকার হয় কিনা?

তোমার যদি আয়ুর্বেদিক পণ্য সম্পর্কে কোন ধরনের জ্ঞান নাও থাকে তবুও তুমি একটি আয়ুর্বেদিক স্টোর করতে পারবে। তাছাড়া আমাদের সরকার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিকাশের জন্য আয়ুর্বেদিক মন্ত্রনালয় করেছে। তুমি চাইলে সেখানে গিয়ে আয়ুর্বেদিক এর উপরে ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণও নিতে পারো। 

এছাড়াও আয়ুর্বেদিক মন্ত্রনালয় ওয়ার্কশপ করিয়ে থাকে। সেখানে তুমি চাইলে আয়ুর্বেদিক পণ্য সম্পর্কে খুব কম সময়ের মধ্যে বিস্তারিত জানতে পারবে এবং কিভাবে আয়ুর্বেদিক পণ্য নিয়ে কাজ করা যায় সে সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা পাবে। এছাড়াও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল স্টোর খোলা, আয়ুর্বেদিক ঔষধ বিদেশে রপ্তানি করা, আয়ুর্বেদিক এর ডিলারশিপ নেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে খুটিনাটি আয়ুর্বেদিক মন্ত্রণালয় জানিয়ে থাকে। 

আয়ুর্বেদিক স্টোর কেমন জায়গায় হওয়া উচিত?

শহরের কোন ব্যস্ত এলাকায় বা বাজারে, গ্রামের বাজারে তুমি তোমার আয়ুর্বেদিক স্টোরের ব্যবসা শুরু করতে পারো। এছাড়াও সরকারী হাস্পাতালের ডাক্তারেরা আজকাল আয়ুর্বেদিক ঔষধের প্রেসক্রিপশন করে থাকেন তাই তুমি চাইলে তোমার দোকান কোন হাসপাতালের সামনেও করতে পারো এতে করে তোমার ক্রেতা সংখ্যা বাড়বে। 

আয়ুর্বেদিক স্টোর কেমন হবে? 

আয়ুর্বেদিক স্টোর এর জন্য ছোট বা বড় তেমন কোন সরকারী নির্দিষ্ট মাপ নেই। তুমি চাইলে যে কোন ছোট দোকানেও আয়ুর্বেদিক স্টোর করতে পারো। তবে স্টোরের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ভালো হওয়া উচিত। অবশ্যাই স্টোরটি না গরম না ঠান্ডা এমন ভাব বজায় রাখতে হবে। কেননা এমন আবহাওয়ায় ঔষধ ভালো থাকে। স্টোরের সামনের দিকে বাদ দিয়ে ৩ দেওয়ালেই ঔষধ রাখার জন্য সেলফ এবং সেলফে আলাদা আলাদা তাক করা যেতে পারে। 

তুমি কোন কোম্পানির ডিলারশিপ নিলে কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী তোমাকে স্টোরেজ বেঁছে নিতে হবে। তবে কিছু কিছু কোম্পানি ছোট জায়গাকেও প্রাধান্য দিয়ে থাকে। 

আয়ুর্বেদিক স্টোরর মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো রাখার জন্য আলাদা সেলফ করা যেতে পারে। এতে করে খুব সহজেই সেগুলো চিহ্নিত করা যাবে এবং গ্রাহককে ঔষধ দেওয়ার সময়ে ভুল হয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। 

কর্মীর দরকার আছে কি না?

প্রাথমিকভাবে তুমি চাইলে তোমার দোকান নিজেই পরিচালোনা করতে পারো। দোকান যদি বড় হয় এবং গ্রাহকের ভীড় ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকে তবে তোমার কর্মীর দরকার আছে। সেক্ষেত্রে দোকানের আয়তোন অনুযায়ী কর্মী সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। আর তুমি যদি আয়ুর্বেদিক ঔষধের ডিলারশিপ নাও তবে মার্কেটিং সেলস টিম তো দরকার পরবেই। 

তাছাড়া তোমার আয়ুর্বেদিক স্টোরে যদি কোন রেজিস্টার আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞকে রাখতে পারো তবে তোমারই লাভ।

কিভাবে আয়ুর্বেদিক ঔষধ বিক্রি করবে?

তুমি যদি ডিলারশিপ নাও তাহলে তোমার আয়ুর্বেদিক স্টোর এর পণ্যের বিক্রি বাড়াতে প্রচার প্রচারণার জন্য সেমিনার, লিফলেট বিতরণ,পোস্টারিং করা সকল কিছু কোম্পানি নিজের পক্ষ থেকে করে থাকে। এছাড়াও কোম্পানির পক্ষ থেকে ডাক্তাদের ভিজিট করার জন্য মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ এর ব্যবস্থাও করা হয়। এভাবে কোম্পানি তোমার দোকানে সেলস বাড়ানোর জন্য  নিজেই কাজ করে থাকে।  

অন্যদিকে তুমি যদি ডিলারশিপ না নিয়ে আয়ুর্বেদিক ঔষধ ও কসমেটিকের স্টোর করো তবে প্রচার-প্রচারণার দায়িত্ব তোমার উপরেই এসে পড়বে। সেক্ষেত্রে তুমি সবচেয়ে সহজ মাধ্যম বেঁছে নিতে পারো। তার একটি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অপরটি তোমার এলাকায় মাইকিং করা এবং মন্দির, হাসপাতালের সামনে, জনবহুল রাস্তার মোড়ে পোস্টার টানিয়ে দিতে পারো। এতে করে তোমার দোকান সম্পর্কে মানুষ জানবে এবং তোমার দোকানের ক্রেতার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে। 

কেমন পুঁজি বিনিয়োগ করতে হতে পারে? 

আয়ুর্বেদিক স্টোর করার জায়গা টা যদি তোমার নিজের হয় তাহলে তো দোকান ভাড়া লাগছে না অন্যথায় ভাড়ার খরচা তো লাগবেই। দোকান ভাড়ার বিষয়টি আসলে নির্ভর করে তুমি কেমন দোকান কেমন এলাকায় নিচ্ছ তার উপরে। 

তোমার আয়ুর্বেদিক স্টোরের জন্য ঔষধ স্টক করা বাবদ . থেকে ৩ লাখ রুপি পর্যন্ত পুঁজি বিনিয়োগ করা লাগতে পারে। এর সাথে তোমার দোকানের ডেকোরেশনটা জুরে দিলে আরও আলাদাভাকে একেবারে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার রুপি খরচ হবে।  

এছাড়াও তুমি যদি আয়ুর্বেদিক পণ্যের ডিলারশিপ নিতে চাও তবে তোমার ৫ থেকে ১৫ লাখ রুপি পর্যন্ত খরচা করা লাগতে পারে। কিছু কিছু কোম্পানি ফ্রিতেও ডিলারশিপ দিয়ে থাকে তাতে করে তোমাকে প্রথমে কিছু আয়ুর্বেদিক পণ্য কিনতে হতে পারে। 

আয়ুর্বেদিক স্টোরের ব্যবসা থেকে কেমন আয় হয়?  

আয়ুর্বেদিক স্টোরের ব্যবসায় তুমি ডিলার হলে কোম্পানি , ঔষধ ও কসমেটিকের পণ্য ভেদে তোমার বিক্রির উপরে ৩৫ থেকে ৬০ শতাংশ লাভ থাকবে। আর তুমি কোন কম্পানির ডিলার না হলেও কসমেটিক এবং ঔষধের উপরে তুমি ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত আয় করতে পারো। 

সবমিলিয়ে তুমি বুঝতেই পারছো যে আয়ুর্বেদিক স্টোরের ব্যবসা অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং লাভজনক। আমাদের রাজ্য সরকার কেন্দ্র সরকার সবাই এই আয়ুর্বেদিক ঔষধকে ছরিয়ে দিতে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছ্র এবং ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত যারা আছেন তাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছে। তাই তুমি যদি ব্যবসাটাকে একবার দাঁড় করিয়ে দিতে পারো তবে তোমার ক্রেতার অভাব হবে না। তার সাথে তরতরিয়ে তোমার ব্যবসা বেড়ে যাবে। আয়ুর্বেদিক মেডিকেল স্টোরের ব্যবসা এভাবেই তোমাকে একজন সফল উদ্যগক্তায় পরিণত করতে পারে।  

 

Related Posts

Leave a Comment