Home ব্যবসায়িক পরামর্শ অভিনব দোকান ব্যবসা
অভিনব দোকান ব্যবসা

অভিনব দোকান ব্যবসা

by Tandava Krishna

কিভাবে ফ্যন্সি স্টোর ব্যবসা শুরু করবে

ফ্যন্সি স্টোর আজকাল অনেক পপুলার একটি ব্যবসা। শহরে ছোট শহরে বা গ্রামে সকল জায়গাতে আজকাল এ ব্যবসার প্রচলন হয়ে গেছে। এটি যেহুতু মেয়েদের গহনা ও সাজগোজের জিনিসগুলো নিয়ে ব্যবসা করাকে বুঝায় তাই এর এই ব্যবসার ম্যক্সিমাম কাস্টমারই মেয়েরাই হবে। একবার তুমি নিজেই চিন্তা করে দেখো মেয়ারা কি রকম সাজসজ্যা করে। কেমন গহনা পরে বা গহনার দকানে গিয়ে একদম চোখ মাথায় তুলে আফসোস করে। গহনা আর সাজগোজ নিয়ে মেয়েরা অনেক সিদ্ধহস্ত। সবকিছুতে ছার দিলেও বাচ্চা মেয়ে থেকে শুরু করে বয়স্ক্রা পর্যন্ত সাজগোজের ব্যপারে ছার দিতে চায় না। খুব স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করেই এ ব্যবসা শুরু করা যায় তাই তুমি চাইলে সহজেই একটা ফ্যন্সি স্টোর করে সবালম্বি হতে পারো। 

কেনো শুরু করবে?  

ফ্যন্সি স্টোর দিলে কাস্টমার তোমাকে খুঁজে বেড়াবে  তোমাকে আর কষ্ট করে কাস্টমার খুঁজতে হবে না। সারা বছর ধরেই কাস্টমারদের কাছে ফ্যন্সি মালামালের ডিমান্ড থাকে তাই ব্যবসাটি একবার দাঁড় করাতে পারলে লস হবে না। আর মালামালের মেয়দ উত্তীর্ণ হবারও ঝামেলা নেই, শুধু রং পালটে গেলে তোমাকে পণ্য গুলো পরিবর্তন করে আনতে হবে। অন্যদিকে এর পাশাপাশি তুমি যদি কসমেটিক আইটেম নিয়েও কাজ শুরু করো  তাহলে তো কথায় নেই ব্যবসা এমনিতেই বাড়বে। কসমেটিক আইটেম গুলোর মেয়াদ চলে গেলেও কিন্তু কম্পানি পণ্য পরিবর্তন করে দেয়।  

যেহেতু সারা বছর ফ্যন্সি পণ্যের ডিমান্ড থেকে তাই এই ব্যবসার প্রচার-প্রসারের জন্য বিজ্ঞাপণ ব্যয় না করলেও চলে। তবে তউমি যদি পাইকেরী হিসেবে ব্যবসা করতে চাও তাহলে তো বিজ্ঞাপণ প্রচারের দরকার পরবেই। খুব সহজে ব্যবসাটা শুরু করতে চাইলে পাইকেরী হিসেবে ব্যবসা করার কথাটা মাথা থেকে ঝেরে ফেলা উচিত। 

ফ্যন্সি স্টোর করতে শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার আছে কিনা?

প্রথমেই বলে রাখি, ফান্সি ব্যবসার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার তেমন কোন দরকার নাই। শুধু খেয়াল রাখতে হবে বাজারে কোন পণ্য ভালো চলছে। কেমন পণ্যে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশী আর কেমন পণ্য বাজারে নতুন করে হৈচৈ ফেলেছে। এসবে তুমি দক্ষ হলেই হয়ে যাবে। 

 ব্যবসায় লাভ লোকসান, প্রতিদিনের আয় বয়ায়ের  হিসাবটা বুঝতে পারেলেই হলো। ব্যবসায়ের মূল যোগ্যতা হলো সততা। সততার সাথে সাথে ব্যবসায় দরকার ভালো আচরণ ধৈর্য যা ক্রেতাদের সাথে বিক্রেতার ভালো সম্পর্কের কারন হবে।  ব্যবসা পরিচালনায় সব ব্যবসায়ী নিজস্ব কিছু না কিছু টেকনিক অবলম্বন করে থাকে যা সকল ব্যবসায়ীদের মূলমন্ত্র। আর সেগুলো হতে হবে সততার ভিত্তি স্বরূপ।

তোমার ফ্যান্সি স্টরের জন্য কেমন লোকেশন নির্ধারণ করবে? 

মেয়েদের আইটেম গুলো নিয়ে ব্যবসা করার জন্য তোমাকে অবশ্যই একটি ভালো লোকেশন ঠিক করতে হবে। যদি দোকানটি ভালো পয়েন্টে না হয় তাহলে পণ্যের ক্রেতা কমে যাবে। তাই দোকানের স্থান নির্বাচনে বিশেষ নজর দিতেই হবে। অর্থাৎ যেসব রাস্তায় লোকজন বেশি চলাচল করে এমন স্থান দোকানের জন্য নির্বাচন করলে ভালো হয়। এতে করে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে। অন্যদিকে তুমি ইচ্ছে করলে মেয়েদের স্কুল কলেজের সামনেও এরকম দোকান খুলে বিসতে পারো এতে করে তোমারই লাভ হবে। 

দোকানের আয়তন কেমন হওয়া উচিত?

দোকানের আয়তন কেমন হবে তা সব সময় নির্ভর করবে তোমার পুঁজির উপর। অর্থাৎ পুঁজি যদি বেশি হয় তাহলে দোকানের আয়তন বড় নির্ধারণ করতে হবে। আর পুঁজি যদি কম হয় তাহলে ছোট দোকান নির্ধারণ করা উপযুক্ত হবে। তোমার দোকান যেমনই হোক না কেনো পণের ডিসপ্লে ভালো হলে বিক্রিও ভালো হবে। একেবারে সোজা ভাষায় বলতে গেলে তোমার দোকানের পণ্যের মান ভালো হলে দোকান ছোট বা বড় সেটা কোন বিষয় না। আজকাল কিছু মানুষ ফেরী করেও এসব পণ্য সামগ্রী পাড়া মহল্লায় বিক্রি করে ভালো রোজগাড় করছে।  

ডেকারেশন কেমন হবে?

ফ্যন্সি পণ্য নিয়ে ব্যবসার ক্ষেত্রে তোমার পণ্যের ডিসপ্লে প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখে। দোকান কিভাবে সাজাবে তা  পণ্য বিক্রির উপর কিছুটা নির্ভর করবে। বিক্রি বাড়াতে দোকানের ডিসপ্লে প্রতি ১৫ থেকে ২০ দিন পর পর পরিবর্তন করা উচিত। এতে নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট হতে পারে। তোমার গ্রাহকেরা যেন দোকানটিতে কেমন পণ্য রেখছো তা বাহির থেকেই দেখতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।  সেজন্য ভালো মানের পণ্য দিয়ে দোকানে সাজিয়ে রাখতে হবে যেন সহজেই গ্রাহকের চোখে পড়ে। 

বিশেষ করে তোমার দোকানে সাদা রং বড় সাইজের আয়নার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এতে করে দোকানটি দেখতে যেমন সুন্দর লাগবে তেমনি গ্রাহকদের আকৃষ্ট করবে। এছাড়া ডেকোরেশনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দোকানের সাইনবোর্ড যা দোকান কে গ্রাহকদের কাছে পরিচিত করতে সহায়তা করবে। তাই এসব দিক লক্ষ্য রাখে এই দোকানের ডেকোরেশন করা উচিত।

ফ্যন্সি পণ্য কোথায় কিনতে পাবে?  

আজকাল যাকোন পণ্য কেনার জন্য অনলাই মার্কেট একদম পারফেক্ট তুমি চাইলে আমাজান, ইন্ডিয়া মারট, ট্রেডিন্ডিয়ার মত অনলাইন থেকেও ইমিটেশনের অলংকার, মেকাপ, লিপিস্টিক, মেয়েদের অন্ডাওয়ার গার্মেন্টস, আইল্যাশ, নেলপালিস এর মতো ইত্যাদি পণ্য খুব কম দামে  কিনতে পারো। 

তাছাড়া, তোমার আশেপাশের শহরের পাইকেরী দোকান গুলোতেও ফ্যন্সি পণ্য কিনতে পাবে। আজকেল অবশ্য তোমার দোকানে এসে পণ্যের বিপনণকারীরা পণ্যের অর্ডার নিয়ে যায় সেক্ষেত্রে তোমাকে আশেপাশে যারা এমন পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছে তদের কাছ থেকে বিপনণকারীদের তথ্য নিয়ে নিতে পারো। তুমি চাইলে দোকানে কসমেটিক আইটেমো রাখতে পারো এতেকরে ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। 

ব্যবসাটি যদি আরও বড় করতে চাও তবে তুমি দিল্লির সদর নামের একটা জায়গা থেকে এসব ফ্যন্সি পণ্যের মালামাল কিনতে পারো। 

কিভাবে পণ্য বিক্রি করবে?

তোমার স্টোরের পণ্য ফিক্সড প্রাইজে  বিক্রি করবে নাকি দড়াদড়ি করে বিক্রি করবে এটা তোমার দোকানের লোকেশন এর উপর নির্ভর করবে। দোকান যদি শহরে হয়ে থাকলে ফিক্সড প্রাইজের পণ্য বিক্রি করতে পারো। কারণ এতে বেশি টাকা লাভ করতে পারবে আর যদ দোকান গ্রাম বা ছোট শহরে  হয়ে থাকে তাহলে দড়াদড়ি করে পণ্য বিক্রি করতে পারো। 

এছাড়াও অনলাইনে বা কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যভার করেও তুমি পণ্য বিক্রি করতে পারো। আজকাল মানুষ ঘরে বসেই আসেপাসের এলাকাতে ফ্যন্সি পণ্যের হোম ডেলিভারির ব্যবসাও করছে। 

কেমন পুঁজি দরকার পরে? 

দোকান তোমাএ নিজের হয়ে থাকলে ভাড়াটা লাগছে না অন্যথায় দোকান ভাড়া লাগবে। আর অনলাইনে শুরু করলে বাড়িতে বসেই শুরু করা যাচ্ছে। দোনাক নিলে ডেকোরেশন খরচার দরকার আছে। আর ফ্যন্সি পন্যসামগ্রী কিনতে প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলেই চলে। 

আর তুমি যদি পাশাপাশি শ্যাম্পু, সাবান, টুথপেস্ট, ব্রাশ অর্থাৎ নিত্য ব্যবহার্য পণ্যও তোমার দোকানে রাখতে চাও তবে সে ক্ষেত্রে আরও ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা প্রাথমিক পুঁজি বিনিয়োগের তালিকায় রাখতে পারো। 

কেমন আয় হয়? 

ইমিটেশনের অলংকারের দাম খুবই কম। এই অলংকার বিক্রি করে ক্রয় মূল্য বাদ দিয়ে তুমি ৪ থেকে ১০ ঘুন লাভ করতে পারো। ঠিক একই ভাবে অন্যন্য মেয়েদের প্রোডাক্ট গুলো বিক্রি করে তুমি ক্রয়ময়ল্য থেকেও কয়েকগুন বেশী লাভ করতে পারো।

অন্যদিকে তুমি দৈনিক ব্যবহার্য পণ্য বিক্রি করেও ৮ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় করতে পারো।

খুব স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে কম সময়ে ফেন্সী স্টোরের ব্যবসা করে সহজেই তুমি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারো। অন্যদিকে, এই ব্যবসায় লস হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকই মেয়ে আর মেয়েদের নিত্য ব্যবহার্য পণ্য নিয়েই এই ব্যবসা। এই বিশাল অংকের জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে তুমি আজকেই ব্যবসাটি করে সফল উদ্যক্তা বনে যেতে পারো।    

Related Posts

Leave a Comment