Home ব্যবসায়িক পরামর্শ অনলাইনে অর্থ উপার্জন
অনলাইনে অর্থ উপার্জন

অনলাইনে অর্থ উপার্জন

by Tandava Krishna

উপার্জন করুন অনলাইনে অতি সহজে

সময়টা দুই দশক আগের হবে। মেট্রো স্টেশনে, সিনেমা হলের সামনে, কিংবা বাস টার্মিনাসে দেখা যেত কিছু লোকদের যারা ব্যস্ত আপনাকে থামিয়ে, হাতে গুঁজে দিতো একটি ছোট লিফলেট। হয়তো কখনো আপনি সেটি খুলে দেখেও ছিলেন অবাস্তব কিছু কথা লেখা ছিল তাতে।

বাড়িতে বসে বিপুল আয়ের সুযোগ!! শীঘ্র যোগাযোগ করুন!!

” হুঁ, বাড়িতে বসে আবার আয় করা যায় নাকি? যত সব ধাপ্পাবাজি ” বলে আপনি কাগজটি দলা পাকিয়ে ছুঁড়ে ফেলেও দিয়েছিলেন। আপনি ভাবেননি অতি চুপিচুপি অন্তর্জাল পা ফেলেছে আপনার চেনা গন্ডির খুব কাছে। আর তাই আজ যখন আপনার চাকরিহীন ভাগ্নে আপনাকে জানায় অনলাইনে কাজ করে সে বাইক কিনছে, এই কোরোনার ভয়াবহ দুর্মূল্যের বাজারে, আপনার মুখটা দেখার মতো হয়।

হ্যাঁ। শুনতে রূপকথার মতো মনে হলেও আজকের যুগে বাড়িতে বসে উপার্জন করা যায় আর ভালো মতো আয় হয়ে যদি আপনার একটি সক্রিয় কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা আর হাতে কিছু সময় থাকে। কি বললেন? ল্যাপটপ আছে, ওয়াইফাই আছে, হাতে বাড়তি সময়ও আছে? তাহলে আসুন দেখেনি কিভাবে এদের উপযোগে বাড়িতে বসে কিছু অর্থ সমাগম ঘটতে পারে।

ফ্রিল্যান্স

শিক্ষিত ও গুণী যুব সম্প্রদায়ের কাছে ফ্রীল্যানসিং একটি অতি লোভনীয় রাস্তা উপার্জনের জন্য। আজ নয় বেশ কিছুদিন আগে থেকেই একটি অভ্যাস বা ট্রেন্ড শুরু হয়েছিল যেখানে কিছু তরুণ নাগরিকরা সপ্তাহে ৬ দিন, ৯ ঘন্টার চাকরি করা থেকে নিজেদের সময় ও প্রতিভা বা কার্যক্ষমতা দিয়ে কাজ খুঁজে নিতো অনলাইনে। আগের প্রজন্ম কখনোই ফ্রীল্যানসিং কে বাঁধাধরা চাকরি ও মাইনের সমতুল্য ভাবেনি। ফ্রিল্যান্স করা ছেলের পাত্রী জোটানো মুশকিল হতো। কিন্তু এখন ছবিটা পরিবর্তন হচ্ছে। গৃহবন্দী মানুষ চাকরি ও উপার্জনের জন্য হন্য হয়ে খুঁজছে একটু বাড়তি অর্থ। আর এখন তাই বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স বিষয়ক ওয়েবসাইটের বাড়ছে জনপ্রিয়তা। আপওয়ার্ক, ফিভার বা ফ্রীল্যান্সার ডট কম এর মতো ওয়েবসাইটে পাবেন আপনি প্রচুর কাজের সুযোগ। একটি একাউন্ট বানাতে হবে আপনাকে তারপর পছন্দ মতো কাজ খুঁজে, সেটি করার অনুরোধ রাখতে হবে। আপনার প্রোফাইল দেখে কর্মদাতার পছন্দ হলে কাজটি আপনি পাবেন এবং কাজ সম্পূর্ণ হলে তবে আপনি আপনার বরাদ্দ অর্থ পাবেন যা আগে থেকে নির্ধারিত থাকবে আপনার ও কর্মদাতার যুগ্ম সম্মতিতে। তবে হতে পারে কিছু সাইট আগে থেকে আপনার কাজের একটি বিবরণ ও নিদর্শন চাইবে। কিছু কর্মদাতা বার বার আপনাকে আপনার কাজটি সংশোধন করতেও বলতে পারে।

ডাটা এন্ট্রি

এই কাজটি বোধয় অনলাইনের সবগুলি কাজের মধ্যে সবথেকে করা সহজ ও পাওয়া সহজ। ডাটা এন্ট্রি কাজের সূচনা হয়েছিল কম্পিউটারের আগমনের সাথে সাথেই। আর যত দিন গেছে ক্লারিকাল কাজ তত আউটসোর্স হয়েছে। আর সেইজন্যই ডাটা এন্ট্রি কাজের চাহিদা বেড়েছ। সামান্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংলিশের  জ্ঞান থাকলেই করা যায় এই কাজ। বাড়িতে বসে বা অফিসে দুই ভাবেই এই কাজ হয় তবে সাধারণত ডাটা এন্ট্রি কাজের যে বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে তা বাড়ি থেকেই করতে হয়। সংক্ষেপে বললে কোনো যন্ত্র দ্বারা (সাধারণত কীবোর্ড) কোনো সংগঠনের অনলাইন ব্যবস্থা বা সিস্টেমে কোনো অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্ন কে অন্তর্ভুক্ত করাকেই ডাটা এন্ট্রি বলে। পারিশ্রমিক প্রদান হয় সরাসরি ব্যাঙ্ক একাউন্টে ঘন্টা প্রতি বা ডকুমেন্ট প্রতি বা কি স্ট্রোক বা অডিও মিনিট অনুযায়ী। প্রশিক্ষণ খুবই সরল এই কাজের কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে লোভে পড়ে কোনো ফাঁদে পা দেবেন না। যে সকল বিজ্ঞাপন অসাধারণ পারিশ্রমিকের প্রলোভন দেখায় সেগুলি ভালো করে যাচাই না করে কোনো দামি তথ্য দেবেন না বিশেষ করে আপনার ব্যাংক একাউন্টের বিশদ বিবরণ কারণ দূর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই সত্যি অধিকাংশ বাড়িতে বসে ডাটা এন্ট্রি কাজের বিজ্ঞপ্তি আসলে স্ক্যাম!

কন্টেন্ট রাইটিং

আপনি যদি ভালো লেখেন তাহলে অনলাইনে আপনার লেখা বিক্রি করে উপার্জন করতেই পারেন। অনেক ভার্চুয়াল মঞ্চে পণ্য মূল্যায়ন বা প্রোডাক্ট রিভিউ থেকে সিনেমার চিত্রনাট্য সবকাজেই কনটেন্ট রাইটিং এর আহ্বান করা হয়। আপনার লেখার গুণগত মান বিচার করে আপনার পারিশ্রমিক ধার্য করা হবে।

ইউটিউব

আপনি কি সৃজনশীল কিন্তু লেখালেখি করে মনের ভাব প্রকাশ করতে অপারক। চিন্তা নেই আপনার ভিডিও রেকর্ডারটি ব্যবহার করুন, আর বানিয়ে ফেলুন মনোগ্রাহী ইউটিউব ভিডিও যা আনতে পারবে হাজার হাজার সাবস্ক্রাইবার। ভিডিও বানাতে পারেন যে কোনো বিষয়ের ওপর। রাজনীতি, রান্না, সিনেমা, ভ্রমণ এমনকি আপনার দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও তুলে ধরে হয়ে যেতে পারেন সেলিব্রিটি। শুধু আপনার ভিডিওগুলি জনপ্রিয় হতে হবে। যত সাবস্ক্রাইবার বাড়বে তত বাড়বে আপনার উপার্জন। প্রতি হাজার দর্শন বা ভিউয়ের ওপর নির্ধারিত হবে আপনার উপার্জন।

সমীক্ষা, অনুসন্ধান ও পুনঃ মূল্যায়ন

নানা কথাগুলো পড়ে খুব কঠিন মনে হলেও কাজগুলি যথেষ্ট সোজা। আপনাকে ইন্টারনেট ঘাঁটতে হবে, কিছু সমীক্ষার ফর্ম ভর্তি করতে হবে কিংবা কোনো পণ্য বা পরিষেবার রিভিউ লিখতে হবে আর ব্যাস তাহলেই আপনার একাউন্টে এসে যাবে টাকা। অবিস্বাশ্য মনে হলেও এরকম অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা এই কাজগুলির জন্য পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে। তবে অতি অবশ্যই সাবধানতার সাথে এই কাজগুলি করবেন কারণ সব ওয়েবসাইট খাঁটি বা জেনুইন হয়না।

শেয়ার মার্কেট ট্রেডিং

ডাটা এন্ট্রি যদি অনলাইনের সবথেকে সহজ কাজ হয় তবে নির্দ্বিধায় বলা যায় শেয়ার ট্রেডিং সবথেকে কঠিনতম। কিন্তু আপনি যদি সাবধানে আর বুঝে শুনে এই কাজটি করেন, অনায়াসে প্রচুর টাকা আয় করতে পারবেন। তবে বিধিসম্মত সতর্কীকরণ: হালকা ভাবে নিলে বা যদি এই কাজটি ভালো করে না বুঝে করেন বিপুল ক্ষতি হতে পারে। কোনো স্টক ব্রোকারের পেছনে আপনাকে পড়ে থাকতে হবেনা একটি ডিম্যাট একাউন্ট আর ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড থাকলেই হবে।

ওয়েব ডিজাইনিং

এটা মানতেই হবে যে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আপনার ব্যবসাকে ভার্চুয়াল দুনিয়াতে আনতেই হবে আর ইন্টারনেটে তার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নিদেনপক্ষে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। কিন্তু সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা উদ্যোগপতিরা প্রযুক্তিগত বিষয়গুলিতে পারদর্শী হয়না। তারা সাহায্য নেয় ওয়েবসাইট ডিজাইনার দের। এই ডিজাইনাররা বাড়িতে বসে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ওয়েবসাইট বানিয়ে আর সময় সময় সেগুলি হালনাগাদ বা আপডেট করে অর্থ উপার্জন করেন।

অনলাইনে বেটিং গেম

আরে শুরুতেই চমকে উঠলেন যে! ভয় পাবেন না। এগুলি আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত বৈধ এবং ঝুঁকি হীন। এতে সামান্য রেজিস্ট্রেটান ফী দিলেই আপনি খেলতে পারবেন পোকার সহ বিভিন্ন বোর্ড গেম, ক্যাসিনো গেম, মার্কিন ফুটবল, বাস্কেটবল, ক্রিকেট সহ আরো অনেক মজার মজার খেলা যাতে আপনি আপনার সুবিধেমতো বাজি ধরে জিততে পারেন ক্যাশ প্রাইজ যা সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে। অনেক গেমিং সাইট রেজিস্ট্রেশন ফীস নেয় না আবার ফ্রি বেট রাখতে দেয় যাতে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই আপনি জিততে পারেন টাকা। শুধু দেখে নেবেন যে সাইট টি যেন সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকে আর থাকে বৈধ অনুমতি। একটু দেখে নেবেন এদের ভাবমূর্তি কিরকম, আর এরা জেতা অর্থ ঠিকভাবে হস্তান্তর করে কিনা।

ওপরে যে উপার্জনের পথগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলি প্রমুখ কিন্তু আপনি যদি নেট স্যাভি হন তাহলে পেয়ে যাবেন আরো অনেক পথ অনলাইনে অর্থ উপার্জনের।

দুটি কথা অতি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে:

এক হচ্ছে ভার্চুয়াল পৃথিবী আর মাটির পৃথিবী খুব একটা আলাদা নয়। শঠ ও প্রবঞ্চক ইন্টারনেটে অনেক আছে যারা আপনাকে প্রলোভন দেখিয়ে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ নিঃশেষ করে দিতে পারে। তাই আপনি যদি ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তির বিষয়ে সড়গড় না হন অনলাইন অর্থ উপার্জন করতে গেলে আপনাকে বিশেষ রূপে সাবধান হতে হবে।

আর দুই হলো কোনো কিছুই জাদুবলে হয়না। তাই খুব কম সময়ে তাড়াতাড়ি বেশি অর্থ উপার্জনের আশা করবেন না।

Related Posts

Leave a Comment